প্রস্রাব ঝরে পড়া রোগ নয়, উপসর্গ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:০০ এএম

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যাকে চিকিৎসকরা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলেন। অজান্তে প্রস্রাব ঝরে পড়া বয়স্কদের বেশি দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, মাসিক, জরায়ু ফেলে দেওয়া ইত্যাদি কারণে পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশি দুর্বল ও নিচের দিকে ঝুলে পড়ার কারণে এমনটা হয়। পুরুষদের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হওয়া, প্রোস্টেট ক্যানসার ইত্যাদি কারণে হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে মূত্রথলি ও মূত্রনালির পেশির দুর্বলতা দেখা দেয়, যা প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমায়।

কাদের হয়

অতিরিক্ত ওজন, কিছু স্নায়ুগত রোগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, প্রস্রাবের সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাব ঝরতে পারে। তবে এসব মানুষদের ঝুঁকি বেশি নারী, বয়স্ক মানুষ, ধূমপায়ী, প্রস্রাব ঝরে পড়ার পারিবারিক ইতিহাস, ডায়াবেটিস রোগী, এমএস রোগী, স্থূল ব্যক্তি ও স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষ।

ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ধরন

বিভিন্ন ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স রয়েছে, স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স, আর্জ ইনকন্টিনেন্স, মিক্সড ইনকন্টিনেন্স, ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স ও ফাংকশনাল ইনকন্টিনেন্স।

করণীয়

সাইট্রাস ফল, কফি, কার্বনেটেড ড্রিংকস ও অ্যালকোহল বাদ দেওয়া। মূত্রবর্ধক ওষুধ ফিউরোসেমাইড, হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইড, টরসেমাইড ও স্পিরোনোল্যাক্টোনও প্যান্ট ভিজে যাওয়ার কারণ হতে পারে। কোনো খাবার বা পানীয়র প্রভাবে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স হচ্ছে বুঝতে পারেন। তাহলে ওই খাবার বা পানীয় বাদ দেওয়া। ওষুধের কারণে হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা। অনেক গর্ভবতী নারীর স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স হয়ে থাকে। সন্তান জন্মদানের ছয় সপ্তাহ পরও প্রস্রাব ঝরলে চিকিৎসের কাছে যেতে হবে। বাচ্চা প্রসবের পূর্বে ও পরে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ ও কেগেল এক্সারসাইজ করলে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স কমবে। বয়স্কদের ব্লাডার বা পেলভিক ফ্লোরের পেশিগুলো দুর্বল এবং প্রোস্টেটের বৃদ্ধি। পেলভিক ফ্লোরের পেশিগুলোর দুর্বলতা কাটাতে আপনার চিকিৎসক পেলভিক

ফ্লোর ফিজিক্যাল থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।

প্রোস্টেটের বৃদ্ধি প্রধানত দুভাবে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স ঘটে।  এটি ব্লাডারে চাপ দিয়ে প্রস্রাব নির্গত করায় এবং এটি প্রস্রাবের প্রবাহে সাময়িক বাধা দিয়ে ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ দেবেন। ওষুধে কাজ না হলে সার্জারি করা লাগতে পারে। গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদান সংক্রান্ত ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের মতো মেনোপজাল ইনকন্টিনেন্সেও পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করলে উপকার পাওয়া যাবে। মূত্রনালির সংক্রমণে পেলভিক এরিয়াতে ব্যথা বা চাপ, প্রস্রাবের সময় ব্যথা ও জ¦ালাপোড়া, লাল বা গাঢ় প্রস্রাব ও জ¦র। চিকিৎসক ইউটিআই শনাক্ত করলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। এই সংক্রমণ দূর হয়ে গেলে প্রস্রাব ঝরে পড়াও থেমে যায়। যারা প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য সার্জারি করেছেন তাদের ৬-৮ শতাংশের দীর্ঘস্থায়ী ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স ছিল। এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানীয় পান সীমিত করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্যেও প্রস্রাব ঝরে পড়তে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ডায়েটে বেশি করে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার  খেতে হবে। বিকল্প হিসেবে ব্যায়াম করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত