ফজরের আজান দিতে মসজিদে যাচ্ছিলেন মুয়াজ্জিন আসাদুল্লাহ। সমজিদের সামনে আসতেই দেখতে পান অজ্ঞাত ৪-৫জন লোক একটি গরু নিয়ে যাচ্ছেন। এসময় মুয়াজ্জিন আসাদুল্লাহ অজ্ঞাত লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি।
পরে মুয়াজ্জিন মসজিদে ভিতরে প্রবেশ করে মাইকে ঘোষণা করেন, ‘সম্মানিত এলাকাবাসী, অজ্ঞাত কয়েকজন লোক একটি গরু নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা দ্রুত উঠুন।’
মুয়াজ্জিনের এমন ঘোষণা শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুম থেকে জেগে উঠে গরুসহ চোর মো. জসিম উদ্দিন (৩২)-কে আটক করে। এসময় জসিম উদ্দিনের সাথে থাকা অজ্ঞাত আরও ৩-৪জন চোর দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটকৃত জসিমকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়ে দেন এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন আকন্দ আটকৃত চোর জসিমকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার গরুচোর মো. জসিম উদ্দিনকে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার আনুমানিক ভোর ৪ টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের গালাহার গ্রামের উত্তর গালাহার নতুন মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার আতকাপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, উদ্ধারকৃত গরুর মালিক মো. সোহরাব সরকার বাদী হয়ে আটক চোরসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গরুর মালিক সোহরাব বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো রাতে গোয়ালঘরে গরুকে খাবার দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে মুয়াজ্জিনের এলান শুনে গোয়ালঘরের গিয়ে দেখি আমার চল্লিশ হাজার টাকা মূল্যের কালো গরুটি নেই। এলাকার লোকজন গরুসহ চোরকে আটক করলে গিয়ে দেখি গরুটি আমার। পরে পুলিশ আমাকে গরু বুঝিয়ে দেয় এবং আমি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে গরুচোরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আজ তাকে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং গরুর প্রকৃত মালিককে তার গরুটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চুরি-ছিনতাই রোধে থানা-পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
