উৎপাদনে যেতে যেভাবে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম

বহুমখি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে নানান জটিল কর্মজজ্ঞের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট (১২০০ মেগাওয়াট) এখন উৎপাদনের প্রায় দ্বারপ্রান্তে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগির শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পাশাপাশি একই সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে জোরেসোরে। 
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি উচ্চ প্রযুক্তির এবং নিরাপত্তা-নির্ভর প্রকল্প। প্রতিটি ধাপ সুপরিকল্পিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয় যাতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কম হয় এবং সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

রূপপুরে প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষে এখন কমিশনিংয়ের প্রস্তুতি হিসেবে চূড়ান্ত পর্যায়ে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে নিখুঁতভাবে। কারণ এই ধাপেই নিশ্চিত করা হয় যে কেন্দ্রটি নিরাপদ, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

প্রস্তুতিমূলক ধাপে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাইপলাইন ও যন্ত্রপাতিকে ধুলাবালি, তেল, ওয়েল্ডিংয়ের অবশিষ্টাংশ ইত্যাদি থেকে পরিষ্কার করা হয় পানি, বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্য বা বায়ুর প্রবাহের মাধ্যমে। এটিকে বলা হয় 'সিস্টেম স্থাপনের পর পর পরিষ্কারকরণ' (পোস্ট ইনস্টলেশন ক্লিনিং)। এরপর বিভিন্ন পাইপলাইন ও যন্ত্রপাতির ওপর হাইড্রলিক পরীক্ষা করা হয় যার উদ্দ্যেশ্য-এগুলোর দৃড়তা পরীক্ষা এবং কোথাও কোনও লিকেজ বা ফাটল আছে কি না তা যাচাই করা। এই কাজ শেষে আরও কিছু পরীক্ষা চালানো হয়, যেগুলোর মধ্যে কিছু একক যন্ত্রপাতির পরীক্ষা এবং কিছু সমন্বিত সিস্টেম পরিচালনা ও নকশাগত পরীক্ষার বিষয় থাকে। এগুলো করে নিশ্চিয়তা দেওয়া হয়, যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নিরাপদ, কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইইএ) এসব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

গুরুত্বপূর্ণ যেসব পরীক্ষা শেষ হয়েছে

রিয়াক্টরকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের হার্ট বা হৃদয় বলা হয়। যেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপই পরবর্তীতে পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করে টারবাইন ঘোরাতে সাহায্য করে, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। রিয়াক্টর নিরাপদে চালানোর জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। 

এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো রিঅ্যাক্টর ভবনের প্রতিরক্ষামূলক আবরণের (কনটেইনমেন্ট) ঘনত্ব ও দৃড়তা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যাচাই করা হয় রিঅ্যাক্টর ভবন, কনটেইনমেন্ট কাঠামো এবং অন্যান্য অংশগুলি সঠিকভাবে নির্মিত হয়েছে কি না। যদি কোথাও লিকেজ বা ছিদ্র, ফাটল বা দুর্বলতা থাকে, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভবিষ্যতে কোনো রেডিয়েশন বাইরে ছড়ানোর ঝুঁকি থাকবে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো “কোল্ড ও হট টেস্টিং”। এই পরীক্ষাগুলো পারমানবিক জ্বালানি লোড না করেই, ডামি কোর (পারমানবিক জজ্বালানির আদলে তৈরি নকল জ্বালানি) ব্যবহার করে চালানো হয়।

কোল্ড টেস্টিং পর্যায়ে, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি কুলিং সার্কিটে হাইড্রলিক পরীক্ষা (পানির চাপে পরীক্ষা) ও সার্কুলেশন ফ্লাশিং (পানি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চালানো) করা হয় এবং বিভিন্ন পাওয়ার ইউনিট সিস্টেম, যার মধ্যে সেফটি (নিরাপত্তা) সিস্টেমও রয়েছে, তা একযোগে পরীক্ষা করা হয়। হাইড্রলিক পরীক্ষায় ডিওনাইজড (আয়রনমুক্ত) ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করা হয় প্রাইমারি সার্কিটে, এবং বিভিন্ন স্তরের চাপে পাইপলাইনগুলো পরীক্ষা করা হয়। উদ্দেশ্য হলো লিকেজ বা ছিদ্র খোঁজা এবং নিশ্চিত হওয়া যে পাম্প, ভালভ ইত্যাদি ঠিকভাবে কাজ করছে।

এ ছাড়া প্রাইমারি সার্কিটের জন্য উচ্চচাপ সহনশীলতার পরীক্ষা চালানো হয় দেড়গুণ অতিরিক্ত চাপে। এর উদ্দেশ্য হলো সার্কিটের সমস্ত যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই করা। ওপরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাসহ আরও বেশ কিছু পরীক্ষা ইতিমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি প্রথম ইউনিটের ‘হট এবং কোল্ড’ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষাটি করার জন্য মূল সার্কুলেশন পাম্পের মাধ্যমে প্রাইমারি সার্কিটের পানিকে ২৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম করা হয়, যার ফলে সেকেন্ডারি সার্কিটে স্টিম (বাস্প) তৈরি হয়, যা সেখানকার স্টিম লাইনগুলো পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষাটি উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে পরিচালিত হওয়ায় পাইপলাইনের ভিতরের যেকোনো ময়লা বা অবাঞ্ছিত ছোট কণিকা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। এই পর্যায়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক ঘূর্ণন, কন্ট্রোল সিগন্যাল, ভালভ খোলা-বন্ধ, পাম্পের শব্দ ও চাপ- এ সবকিছুই ম্যানুয়ালি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

হট টেস্টিং চলাকালীন, রিঅ্যাক্টরের সমস্ত যন্ত্রপাতি জ্বালানি ছাড়াই পুরোপুরি গরম অবস্থায় কাজ করে। এই সময়ে তাপমাত্রা এবং চাপ থাকবে নিউক্লিয়ার ফুয়েলসহ অপারেশনের কাছাকাছি, অর্থাৎ প্রায় ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ১৫৭ কেজি/বর্গসেন্টিমিটার চাপ।

এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো যন্ত্রপাতির প্রকৃত কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা, তাপমাত্রা ও চাপ বৃদ্ধিতে সেন্সর, অ্যালার্ম এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা, এবং সিস্টেমে অস্বাভাবিক শব্দ, কাঁপুনি, নয়েজ আছে কি না তা পরীক্ষা করা।

হট টেস্টিংয়ের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি ছাড়াই রিঅ্যাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি পরিচালনার তাপমাত্রা, চাপ ও পানির প্রবাহের শর্তে সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা। হট টেস্টিং শেষে এখন প্রাইমারি সার্কিটের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা করা হয় পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য।

মূল যন্ত্রপাতির পুন:পরীক্ষণ

হট টেস্টিং শেষ হওয়ার পর শুরু হবে “রিভিশন” বা পুন:পরীক্ষা পর্যায়। এ পর্যায়ে প্রতিটি যন্ত্রপাতি একে একে খুলে আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে। এ সময় রিঅ্যাক্টরের ঢাকনা (লিড) খোলা হবে এবং ভেতরের প্রতিটি উপাদান একে একে পরীক্ষা করা হবে।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় মূল যন্ত্রপাতি, ওয়েল্ড জয়েন্ট, স্টাড, নাট এবং এর সংযোগগুলো পরীক্ষা করা হয়। যদি কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়, তা সংশোধন এবং পরবর্তীতে ছোট পরিসরে আবারও পরীক্ষা করা হবে। এ পর্যায়ে এটাও যাচাই করা হয় যে ভালভগুলো সঠিকভাবে খুলছে ও বন্ধ হচ্ছে কি না, তাপমাত্রার কারণে কোনো অংশ বিকৃত হয়েছে কি না, পাইপ সংযোগে কোনো লিকেজ বা ফাটল দেখা দিয়েছে কি না।

বৈদ্যুতিক সিস্টেম পরীক্ষা এবং জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযোগ

মূলত বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগের আগে এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সব বৈদ্যুতিক সংযোগ, কেবল, ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার, রিলে প্রটেকশন এবং নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়, যেগুলো ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই পরীক্ষায় যাচাই করা হয় যে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বাধা আছে কি না, সিস্টেমে শর্ট সার্কিট কিংবা ওভারলোডের ঝুঁকি আছে কি না এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনার জন্য মূল ও বিকল্প পাওয়ার (জেনারেটর, ইউপিএস, স্ট্যান্ডবাই ব্যাটারি) লাইন  ঠিকভাবে কাজ করছে কি না।

জ্বালানি লোডিং এবং ফিজিক্যাল স্টার্টআপ

সব প্রস্তুতি শেষে রাশিয়া থেকে সরবরাহকৃত ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি (ইউরেনিয়াম) রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “জ্বালানি লোডিং”। এটি করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন লাগবে।

অব্যবহৃত বা নতুন পরমাণু জ্বালানি প্রায় অতেজস্ক্রিয় বা তেজস্ত্রিয়তাহীন এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে এটি বিপজ্জনক নয়। পারমানবিক এই জ্বালানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় রূপপুর প্রকল্প এলাকায় অত্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এখন সেখান থেকে রিঅ্যাক্টর ভবনের একটি বিশেষ ফুয়েল স্টোরেজ পুলে নিয়ে যাওয়া হবে এই জ্বালানি। এর তা রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়।

জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টরের ঢাকনা খোলার পর একটি রিমোটলি অপারেটেড (দূর থেকে পরিচালিত) নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিলোডিং মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্টোরেজ পুলের একটি নির্দিষ্ট বেসিন থেকে তুলে নির্ধারিত স্থানে রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করা হবে। জ্বালানি লোড করার সময় রিঅ্যাক্টরের ভিতরে পর্যায়ক্রমে বোরিক অ্যাসিড (একটি রাসায়নিক যা রিয়াক্টরের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পারমানবিক বিক্রিয়ায় বাধা দেয়) দ্রবণও ভর্তি করা হবে। প্রতিটি অ্যাসেম্বলি লোড হওয়ার পরে বিশেষ ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। সব অ্যাসেম্বলি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর রিঅ্যাক্টরের ঢাকনা বন্ধ করে সিল করে দেওয়া হবে। কন্ট্রোল রডের (পারমানবিক বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়) কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে এ সময়।

রিয়্যাক্টরের সব যন্ত্রপাতি বসানো শেষে সকল হাইড্রলিক (পানির উচ্চ চাপে) পরীক্ষা, পারমানবিক বিক্রিয়া ছাড়াই রিঅ্যাক্টর কুলিং পাম্পের মাধ্যমে প্রাইমারি সার্কিটকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে উত্তপ্ত করা, সব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরীক্ষা, প্রাইমারি সার্কিটে তাপমাত্রা ও পানির চলাচল পরিমাপ এবং সেকেন্ডারি সার্কিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

সমস্ত প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে প্রথমবারের মতো রিঅ্যাক্টরকে ইউরেনিয়াম বিভাজনের মাধ্যমে ক্রিটিক্যাল (নিয়ন্ত্রিত পারমানবিক বিক্রিয়া শুরু) অবস্থায় আনা হবে। এ সময় খুবই কম শক্তিতে (পূর্ণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত) তা চালিয়ে এর প্রয়োজণীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন

রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং এবং প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে “পাওয়ার স্টার্ট-আপ” বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচনা শুরু হবে। এই পর্যায়ে, রিঅ্যাক্টর কোরে ইউরেনিয়াম বিভাজনের মাধ্যমে ধারাবাহিক নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া শুরু করে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করা হবে। এতে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত তাপ রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সার্কিটের পানি গরম করবে। এই গরম পানি স্টিম জেনারেটরে প্রবেশ করে যেখানকার হিট এক্সচেঞ্জ টিউবের মাধ্যমে সেকেন্ডারি সার্কিটের পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করবে এবং তা আবার রিঅ্যাক্টরে ফিরে আসবে। প্রথম ও দ্বিতীয় সার্কিটের বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এই সময়ে সম্পন্ন হবে।

আর এসব পরীক্ষা শেষে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে এবং উৎপন্ন বাষ্প টারবাইনে প্রবেশ করানো হবে, যার মাধ্যমে টারবাইন চালু করা হবে। টারবাইন থেকে নির্গত বাষ্প কনডেন্সারে প্রবেশ করে, যেখানে তৃতীয় কুলিং সার্কিটের পানি যা কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে ঠান্ডা থাকে, সেটি হিট এক্সচেঞ্জ টিউবের মাধ্যমে বাষ্পকে তরলে রূপান্তরিত করবে। অর্থ্যাৎ পানি থেকে বাস্পে রূপান্তর হয়ে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরবর্তীতে কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে সেই বাস্প আবার পানিতে পরিণত হয়ে পুনরায় ব্যবহার হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে। এভাবেই চলতে থাকবে।

টারবাইন চালু হওয়ার পর, টারবাইন ও জেনারেটরের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সাথে সিনক্রোনাইজ বা সংযুক্ত করা হবে।

রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি

পাওয়ার প্ল্যান্টকে পরীক্ষামূলক চালানোর জন্য কমিশনিংয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। প্রথমে এটি ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে, এরপর ৫০ শতাংশ এবং ৭৫ শতাংশে পৌঁছানো হবে। সর্বশেষে প্ল্যান্ট পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।

প্রথমে প্ল্যান্ট পরীক্ষামূলক মোডে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ সময় রিঅ্যাক্টর ও টারবাইন অবিরাম চালানো হবে যাতে কোনো সম্ভাব্য সমস্যা রয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়। এরপর শুরু হবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যার মাধ্যমে পাওয়ার ইউনিট থেকে নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।

বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে চূড়ান্ত ধাপে সমন্বিত ডেমনস্ট্রেশন এবং গ্যারান্টি টেস্ট সম্পন্ন করা হবে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় প্ল্যান্টটি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত