সন্তু লারমা

আদিবাসীরা এখনো অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম

পাহাড় ও সমতলের অধিকাংশ আদিবাসী আজও নিপীড়ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকার আদিবাসীদের কার্যকর কোনো সংগঠন বা নেতৃত্বের সঙ্গে সংলাপ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি শনিবার (৯ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের সমাবেশে সরাসরি যোগ দিতে না পারলেও তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।

সন্তু লারমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ২৮ বছরেও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। পাহাড়ে সমস্যা নতুন রূপ নিচ্ছে, আর সমতলের পরিস্থিতি আরও নাজুক। ভূমি থেকে উচ্ছেদ, নারী নিপীড়ন, বৈষম্য ও বিচারহীনতা আদিবাসীদের আরও প্রান্তিক করে তুলছে।

তিনি প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের আদিবাসী অধিকার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, মাইকেল চাকমার গুম, কল্পনা চাকমা, আলফ্রেড সরেন ও পীরেন স্নালের হত্যার বিচার এখনই নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ে অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়রা কেন বাড়ি ফিরতে পারছেন না? বম সম্প্রদায়ের অনেকে এখনো উদ্বাস্তু।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহীন আনাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরেও আদিবাসীদের জন্য ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আদিবাসী অধিকারের কথা বলা হলেও এক বছর পরও পাহাড়ে দখল ও অস্থিতিশীলতা চলছে। সংস্কার কমিশন আদিবাসীদের জন্য হয়নি।

সমাবেশে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।
৩. সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন।
৪. আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার বন্ধ।
৫. নিপীড়ন বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
৬. জাতিসংঘের আদিবাসী ঘোষণাপত্র ও আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন।
৭. রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদ্যাপন।

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সকাল থেকেই রঙিন হয়ে উঠেছিল পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতীক নিয়ে শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছিল ক্ষুদ্র বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

সমাবেশে হাজং, বম, খাসিয়া, মারমা ও গারো সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহীদ মিনার থেকে টিএসসি হয়ে আবার শহীদ মিনারে ফিরে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত