প্রবল উৎসাহ নিয়ে গত মাসের মাঝামাঝি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করেছিল আবাহনী লিমিটেড। ১২ আগস্ট এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচের জন্যই একটু আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু করে ছয়বারের প্রিমিয়ার লিগ জয়ীরা। তবে তাদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে মাঝপথে। কাক্সিক্ষত বিদেশিদের দলে ভেড়াতে পারেনি আকাশি-হলুদরা। তাই ঢাকা স্টেডিয়ামে আগামীকাল তাদের মাঠে নামতে হবে একজন মাত্র বিদেশি নিয়ে। সেই বিদেশিই অবশ্য যা একটু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আবাহনীকে। নামটা যে সুলেমান দিয়াবাতে।
আবাহনীর কর্তারা অবশ্য যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছেন। ‘আমরা একজন বিদেশি নিয়েই মাঠে নামব। যারা আছেন, তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে নামবে। আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো কিছুই আশা করছি। যদিও কিরগিজ প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী’, বলেছেন ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু।
এএফসি’র আসরে দেশের সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি আবাহনী। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এএফসি কাপের রেকর্ডে আবাহনীর নাম থাকবে দেশের অন্য ক্লাবগুলোর ওপরে। তারাই একমাত্র দল হিসেবে এএফসি কাপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জোনাল সেমিফাইনালে উঠেছিল ২০১৯ সালে। যদিও সেই বছর আন্তর্জাতিক সাফল্য পেলেও এরপর থেকে টানা ছয় মৌসুম তারা পায়নি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার স্বাদ। বসুন্ধরা কিংসের উল্লম্ফনে আবাহনী হারিয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব। কিংসকে টানা পাঁচবার লিগ জিততে দেখতে হয়েছে তাদের। আর গত মৌসুমে দেখেছে মোহামেডানের প্রথমবারের মতো পেশাদার যুগে লিগ শিরোপা উৎসব।
ঘরোয়া পর্যায়ে সেরা হতে না পারার সুবাদে আন্তর্জাতিক মঞ্চটাও কণ্টকাকীর্ণ হয়েছে আবাহনীর জন্য। আগে যারা সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলত তাদেরই এখন নিয়মিত খেলতে হয় প্রাক-বাছাই। ২০১৯ সালের পর থেকে প্রতিবারই তাদের থামতে হয়েছে প্রাক-বাছাইয়ে। কাক্সিক্ষত দুই সঙ্গীকে না পেলেও দিয়াবাতে চান মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে নতুন দলকে অন্যরকম কিছু উপহার দিতে। কিরগিজ দলটির আজ সকালে চার্টার্ড বিমানে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দীর্ঘ ছয় মৌসুম মোহামেডানের হয়ে খেললেও কখনই এএফসি’র কোনো আসরে খেলা হয়নি দিয়াবাতের। তাই আবাহনীর জার্সির মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও অভিষেক হবে ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের। নিজের প্রথমটা স্মরণীয় করার কথা বলেছেন তিনি, ‘আপনারা জানেন, এটাই আমার প্রথম এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ খেলা। তবে ফুটবল তো সব জায়গায় একই রকম। তাই আমি আমার ফুটবল খেলব। আমি সবকিছুই করব আবাহনীকে জেতানোর জন্য।’
নতুন মৌসুম, নতুন ক্লাব আর নতুন সতীর্থ হলেও দিয়াবাতে আত্মবিশ্বাসী নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে, ‘আবাহনীর সব খেলোয়াড়কে আমি চিনি। তাই তারা আমার জন্য নতুন না। হয়তো ম্যাচটা নতুন, তবে আমি বলেছি ফুটবল তো সব জায়গায় একই রকম। আসর বা ক্লাবের নাম বদলে গেলেও খেলার ধরন একই। খেলোয়াড়রাও ভালো, কোচও ভালো। আবাহনীও ভালো দল, তাই আমরা চেষ্টা করব লড়াই করে ম্যাচ জিততে, ইনশাআল্লাহ।’
গত মৌসুমে মোহামেডানকে শিরোপার স্বাদ দিতে বড় ভূমিকা ছিল দিয়াবাতের। তাদের হয়ে এ মৌসুমেই খেলতে পারতেন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ। তবে মোহামেডানের গাফিলতিতে কোনোটাই হয়নি। দিয়াবাতের আবদার যেমন রাখতে পারেনি মোহামেডান, এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলতে হয়ে প্রথম শর্ত এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিংও ঠিকঠাক করেনি তারা। তাই ঘরের মাঠে দিয়াবাতেকে চিরশত্রুর জার্সিতে খেলতে দেখতে মোহামেডানের দর্শক-সমর্থকদের জন্য ভীষণ কষ্টের। হতাশ দিয়াবাতেও, তবে খুশি তিনি আবাহনীতে এসে। ‘আমি সাহায্য করব’ জানিয়ে বলেছেন, ‘ফুটবল একার খেলার খেলা না। আবাহনীতে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা যদি আমাকে সাহায্য করে, তবে আমরা জিততে পারি। ফুটবল কেবল বিদেশিদের জন্য না, স্থানীয় খেলোয়াড়রাও অনেক ভালো। আমি গত মৌসুমে তাদের বিপক্ষে খেলেছি, আমি জানি তারা কেমন খেলোয়াড়। তাই তারা যদি আমাকে সহায়তা করে, ইনশাআল্লাহ আমরা কিছু একটা করতে পারব।’
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিম্বাবুয়ে ভেবে ডাক মেরেছে বাবর’
ইয়ামালের জোড়া গোল উপভোগ করলেন নিকি নিকোল