মৌচাকে গাড়ির ভেতরে দুই মরদেহ উদ্ধার: গিয়েছিলেন যাত্রী আনতে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৪ পিএম

রাজধানীর মৌচাকে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা প্রাইভেটকার থেকে যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত দুজনেরই বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায়।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- গাড়িটির চালক জাকির হোসেন (২৬) ও তার সহযোগী মিজান (৩৮)।

জাকির হোসেন চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মিজান একই উপজেলার রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হাফিজের ছেলে।

গাড়িটির মালিক জোবায়ের আল মাহমুদ সৌরভ জানান, গতকাল (রবিবার) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টায় ড্রাইভার জাকির আর আমি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মৌচাক যাই। আমি একটা ব্যক্তিগত কাজেই বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। মৌচাক আসার পর ড্রাইভার জাকির আমাকে জানায়— নোয়াখালীর একটি ভাড়া পেয়েছে তিন হাজার টাকার। ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে যাত্রী গাড়িতে উঠবে বলে জানায়।

দুপুর ১১টায় সেখান থেকে রোগী (যাত্রী) রিলিজ হলে তারা নোয়াখালী যাবে। তিনি আমাকে কাজ শেষে নোয়াখালী চলে যেতে বলে। তার সঙ্গে যেহেতু মিজান নামে একজন ছিল তাই আমি কাজ শেষে বাসে করে নোয়াখালী চলে আসি। তারা আমাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের সামনে নামিয়ে দেয়। আমি বাসে করে নোয়াখালী চলে আসি।

তিনি আরও বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আমি ড্রাইভার জাকিরের মুঠোফোনে কল দিলে আমার কল কেটে দেয়। পরে আমি তাকে ব্যস্ত ভেবে কল দেই নাই। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে জিপিএস ট্র্যাকারে আমার গাড়ির লোকেশন একই জায়গায় দেখে তাকে আবারো কল দেই। কিন্তু তখন আর ফোন যায়নি। মিজানের নম্বরেও ফোন দিলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। দুপুর ২টায় রমনা থানা থেকে পুলিশ আমাকে কল করে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানায়। আমি শুনেই এখন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। জাকির হোসেন গত তিন মাস থেকে আমার একটি প্রাইভেট কারের ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত। এর আগে সে অন্য জায়গায় গাড়ি চালাতো।

চাটখিল উপজেলার ২ নম্বর রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোবারক উল্লাহ জানান, ৩ বোন ২ ভাইয়ের সবার বড় মিজান একসময় ড্রেজার মেশিন, পানির মেশিন চালিয়ে ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। গত কয়েক মাস থেকে সে ড্রাইভার জাকিরের সঙ্গে থেকে গাড়ি চালানো শিখছিল। তার এক ভগ্নিপতি ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে এই খবর পেয়ে গত পরশু বিকালে নিজ এলাকা থেকে ডাব নিয়ে জাকিরের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় মিজান। পরে আজ পুলিশের কাছ থেকে আমরা তার মৃত্যুর খবর শুনতে পাই।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দল ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে জানিয়ে রমনা জনের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত