সতীর্থের প্রেমিকাকে ধর্ষণ করা সেই আর্জেন্টাইন ফুটবলার কারামুক্ত

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৫ পিএম

২০১৪ সালের ১৬ মার্চ। আর্জেন্টিনার কুইলমেসের একটি ডিস্কোতে গিয়েছিলেন ইন্ডিপেনডিয়েন্তে ক্লাবের ফুটবলার মার্টিন বেনিতেজ ও তার প্রেমিকা জুলিয়ানা পেরাল্টা। সঙ্গে ছিলেন ক্লাব সতীর্থ আর্জেন্টাইন ফুটবলার অ্যালেক্সিস জারাতে। নাচগান শেষে তারা সবাই চলে যান বেনিতেজের অ্যাপার্টমেন্টে। রাতে পেরাল্টা যখন তার প্রেমিকের পাশে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তাকে ধর্ষণ করেন জারাতে! এই ঘটনায় তার সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

২০১৭ সালে রায় ঘোষণার পর জারাতে আপিল করেছিলেন। তিনি শুরু থেকেই দাবি করছিলেন, সবকিছু হয়েছে দুজনের সম্মতিতে। আপিল চলাকালীন সময়ে তার সাজা স্থগিত ছিল এবং তিনি ওই সময় লাতভিয়ার এফকে লিয়েপায়া ক্লাবে যোগ দেন। তবে এক বছরের মাথায় আর্জেন্টিনায় ফিরে এসে আবার টেম্পারলেতে খেলেন। অবশেষে আপিল আদালত তার সাজা বহাল রাখে এবং ২০২০ সালের ৩ জুলাই তিনি বুয়েনস এইরেসের বাহিয়া ব্লাঙ্কার কারাগারে শাস্তি ভোগ শুরু করেন।

পাঁচ বছর পর দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ শেষ হওয়ায় বিচার বিভাগ তাকে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দিয়েছে। সাধারণত যৌন নির্যাতনের মামলায় এই সুযোগ খুব কম দেওয়া হয়, প্রথমবার তার আবেদন খারিজও হয়েছিল। তবে ভালো আচরণের কারণে তিনি গত ৩ জুলাই কারাগার থেকে বের হন। যদিও তার সাজা ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছিল। কারামুক্ত হওয়ার জন্য তাকে বেশ কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেমন- লোমাস দে জামোরার পৌরসভায় ‘পুরুষত্ববিষয়ক কর্মশালা’তে অংশগ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর ৫০০ মিটারের মধ্যে না আসা।

নিপীড়নের শিকার হয়ে চুপ থাকেননি জুলিয়ানা পেরাল্টা।

জারাতে মুক্তি পাওয়ার এক মাসের বেশি সময় কেটে গেলেও খবরটি এতদিন সামনে আসেনি। গত রবিবার জারাতে টেম্পারলে বনাম চাক্যারিতার ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে গেলেই বিষয়টি প্রকাশিত হয়। সেসময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আবার ফুটবল খেলা, এবং আমি জানি আমি তা পারব। কারাগারে থেকেও আমি অনুশীলন করতাম, যদিও সেটা আদর্শ জায়গা নয়, কিন্তু ব্যায়াম বন্ধ করিনি। বাইরে আসার পর থেকে আড্রোগে ও পাত্রনালে এক ক্লাবে শারীরিক ও সমন্বয়ের কাজ করছি। শরীরের স্মৃতি আছে। আমার বয়স ৩১, এখনো কয়েক মৌসুম খেলতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

জানুয়ারি থেকে কোনো পেশাদার ক্লাবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন জারাতে, ‘কারাগারে ঢোকার পর থেকেই বুঝেছিলাম, নিজেকে ব্যস্ত রাখা আর উন্নতি করার জন্য পড়াশোনার চেয়ে ভালো উপায় নেই। একটি সেবা সংস্থার সঙ্গে সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তির সুবাদে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করি, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু তিনটি বিষয় বাকি। শাস্তির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক পুনঃস্থাপন। এর জন্য কাজ আর পড়াশোনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি ভাগ্যবান, কারণ বাইরে এসে শ্বশুরের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে পেরেছি। এটাই আমাকে নতুন সুযোগ দিয়েছে।’

জারাতে ‘শ্বশুর’ বলতে তার প্রেমিকার বাবাকে বুঝিয়েছেন। লাতভিয়া থেকে ফিরে ইভানজেলিকাল চার্চে তাদের পরিচয় হয়েছিল। কারাগারে থাকার সময়ও দুজনের সম্পর্ক বজায় ছিল। কারামুক্তির পর তিনি প্রেমিকার বাবার পাস্তা কারখানায় যোগ দেন, যেখানে তিনি সরবরাহকারীদের দেখাশোনা ও ক্যাশ কাউন্টার সামলান। তবে জারাতে বিশ্বাস করেন, সাময়িকভাবেই তার এই কাজ করতে হচ্ছে। তিনি দ্রুতই ফুটবলে ফিরবেন।

 অন্যদিকে যৌন নির্যাতনের শিকার জুলিয়ানা পেরাল্টা এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি। জারাতে কারাগারে যাওয়ার দিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘আজ থেকে আমি এই ভারী বোঝা নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করব, যা এত বছর ধরে বয়ে বেড়িয়েছি। আমি যেন আমার জীবন এগিয়ে নিতে পারি। বছরগুলো খুব কঠিন ছিল। আমি তিন বছর ধরে বন্দির মতো জীবন কাটাচ্ছিলাম, আর সে ছিল মুক্ত মানুষ। অনেক সময় ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও লড়াইটা শেষ করতে পেরে আমি গর্বিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত