‘অযৌক্তিক আন্দোলন চললে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করবে’

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩২ পিএম

বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে তিন দফা দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, অযৌক্তিক আন্দোলন বন্ধ না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করবে। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত, যা রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে দেখা গেছে, তৃতীয় কোনো শক্তির ইঙ্গিত আছে এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলনে নামানো হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনের ১৭তম দিনে মহাপরিচালক অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। জরুরি বিভাগের গেটে অবস্থান নেওয়া তিন অনশনকারীর অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে মহাপরিচালক শেবাচিমের সভাকক্ষে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকের বাইরে আন্দোলনকারীরা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও সাগরদি পয়েন্টে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সাগরদি কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে ৭–৮ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। বৈঠক চলাকালীন নথুল্লাবাদ এলাকায় আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে, একজন আন্দোলনকারী আহত হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামানসহ অনেক চিকিৎসক আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তাসহ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

মহাপরিচালক বৈঠকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হয়েছে। আমরা তাদের দাবিগুলোকে ন্যায্য মনে করেছি। স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ নই।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তোমরা একজন স্কুল পড়ুয়া। আগে বিষয় জেনে কথা বলতে হবে। স্বাস্থ্য কমিশন কী সুপারিশ করেছে, তা জানতে হবে। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। আমরা সব বুঝি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করছি। আমরা এই তরুণ প্রজন্মকে সাধুবাদ জানাই। তবে কেউ যেন ভুল পথে না যায়।

দুই ঘণ্টার বৈঠকের পর মহাপরিচালক অনশনস্থলে গিয়ে শেষবার অনুরোধ জানান। আন্দোলনকারীরা আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলে তিনি রাজধানীর উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেন। বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) আহসান হাবিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনশনরত শিক্ষার্থী শাফিন মাহমুদ বলেন, আমাদের ভাইয়েরা ১৭ দিন ধরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমরা তিন দিন ধরে অনশন করছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এসে সমাধান না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব। একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু যদি দেশের মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করে, আমরা তা মেনে নেব।

আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন রনি বলেন, মহাপরিচালকের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তবে তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন। আমাদের এত সুশৃঙ্খল আন্দোলনের মধ্যেও কারও টনক নড়েনি, তাই শিক্ষার্থীদের সাহস দেখে আমরা গণ-অনশনে যাচ্ছি। ব্লকেড কর্মসূচিও চলবে।

গত ২৮ জুলাই থেকে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে। দাবিগুলো হলো- সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত, দুর্নীতি প্রতিরোধ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন। আন্দোলনকারীরা বলেন, আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন থেকে সরব না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত