রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে পারেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলাস্কায় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ভারতকে আরও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বুধবার ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘রাশিয়ান তেল কেনার জন্য আমরা ভারতের ওপর সেকেন্ডারি ট্যারিফ (পরোক্ষ শুল্ক) আরোপ করেছি। আর যদি আলাস্কার বৈঠক ভালো না হয়, তাহলে এই শুল্ক আরও বাড়তে পারে।’
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন—রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য। এটি পূর্ববর্তী ২৫% শুল্কের ওপর বাড়তি চাপ, যার ফলে মোট ৫০% পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হবে।
বেসেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন, আর ইউরোপীয়রা শুধু বাইরে বসে সমালোচনা করছে। ইউরোপীয়দের উচিত আমাদের সঙ্গে শুল্ক আরোপে যোগ দেওয়া।’
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে চেষ্টা করছে এবং এর অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে মিত্রদের সেকেন্ডারি স্যাংশনে অংশগ্রহণ চাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত বিপুল পরিমাণ সস্তা রাশিয়ান তেল আমদানি করেছে। ২০২১ সালে যেখানে রাশিয়ান তেলের অংশ ছিল মাত্র ৩%, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫%-৪০%-এ। এই পদক্ষেপ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে এবং চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা থমকে গেছে।
ভারত যুক্তি দিয়েছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থে সবচেয়ে সস্তা তেল কেনার অধিকার তাদের রয়েছে, কারণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।
বেসেন্ট ফক্স বিজনেস-এ একদিন আগেই ভারতকে বাণিজ্য আলোচনায় ‘একটু অবাধ্য’ বলে মন্তব্য করেন। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে ভারত অনীহা দেখাচ্ছে, যা বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসি বলছে, দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৫ আগস্ট, যখন মার্কিন প্রতিনিধিরা দিল্লি সফরে যাবেন।
এদিকে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ট্রাম্পের নতুন ৫০% শুল্ক কার্যকর হলে ভারত হবে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি শুল্কযুক্ত বাণিজ্য অংশীদার। এর ফলে ভারতের রপ্তানিনির্ভর শিল্প যেমন—পোশাক, গহনা ইত্যাদি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক ধাক্কায় ০.৫% কমে যেতে পারে।
আলাস্কার ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ফলাফল শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নয়, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে, ভারতকে কঠিন বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
