লিগে দল বাড়লে স্থানীয় কোচদের কাজের সুযোগ বাড়বে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩৭ এএম

মাহবুবুল হক জুয়েল, দেশের ফুটবলে খুব আলোচিত নয় নামটা। তবে নিভৃতে ফুটবলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই কোচ। গত মৌসুমে ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের হেড কোচ। তার অধীনে খেলে তিন-চারজন নজর কেড়েছেন জাতীয় দলের বিদেশি কোচের। ২০১৪ সাল থেকে গত মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার ও চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে প্রধান ও সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা জুয়েলের ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দ

বিসিএল এরপর বিপিএলে নিয়মিতই পুলিশের ডাগআউটে দেখা গেছে আপনাকে। অথচ এবার তারা আপনার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি। কী কারণে এটা হলো

মাহবুবুল হক জুয়েল : কোচদের জীবনটাই এমন। কখনো কাজ থাকবে, কখনো থাকবে না। এ বছর দল গঠনের আগে পুলিশ এফসি বেশ কয়েকজন কোচের সাক্ষাৎকার নেয়।  পরে আসিফকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আমার সঙ্গে আলোচনায় তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিল। আমি তাদের মিথ্যে কোনো আশ্বাস দিতে চাইনি। বলেছি, যে মানের দল গড়া হয়েছে তাতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অসম্ভব। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে অনেক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হয়। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আবাহনী, মোহামেডান, বসুন্ধরা মানের খেলোয়াড় লাগে। উঁচুমানের বিদেশি ও কোচিং স্টাফ লাগে। এই বাজেটে সেটা সম্ভব নয়। এই বাজেটে সম্মানজনক একটা স্থানে দলকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমার যুক্তি হয়তো তাদের পছন্দ হয়নি। তবে এটা ঠিক, পুলিশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইচ্ছেটা ইতিবাচক।

পুলিশ তিন বছর আগে লিগে তৃতীয় হয়েছিল। এরপর হয় চতুর্থ। আপনার অধীনে গত বছর সাতে নেমে যায়। এই অধঃপতনের কারণেই কি আগ্রহ হারিয়েছে ক্লাবটি?

জুয়েল : দেখুন, গত মৌসুমে দল গড়াই পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ৫ আগস্টের পর তো হাল ধরার মতো কেউ ছিল না। সেই সময় আমি অনেক কষ্টে খেলোয়াড়দের রাজি করিয়ে দল গড়ি। লিগের প্রথম লেগ পর্যন্ত আমি ছিলাম হেড কোচ, আমিই সহকারী, আমিই ট্রেইনার। একজন মাত্র বিদেশি ছিল। মানের দিক থেকে যে স্থানীয়দের চেয়েও নিচে ছিল। দ্বিতীয় লেগে একজন জার্মান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর যোগ দেন। এমন ভঙ্গুর দল নিয়ে সপ্তম হওয়াকে আমি মোটেই খারাপ ফলাফল বলব না। পয়েন্টের হিসাবে আমরা কিন্তু যৌথভাবে পঞ্চম হয়েছিলাম। তিন দলের সমান ২৭ পয়েন্ট ছিল। তবে গোল গড়ে আমরা সপ্তম হই।

তার মানে কি পুলিশ আপনাকে মূল্যায়ন করেনি?

জুয়েল: আমি মোটেই এটা বলব না। পুলিশে কয়েক প্রস্থে প্রায় ৯ বছর কাজ করেছি। বিসিএলে দলকে একবার রেলিগেশনের মুখ থেকে বাঁচিয়ে ছিলাম। তারা আমাকে যোগ্য সম্মানই দিয়েছে সবসময়। এ বছর আমাকে নেইনি বলে তাদের ওপর কোনো ক্ষোভ নেই। এটা হতেই পারে। তবে আমার একটা সামগ্রিক হতাশা আছে।

সেটা কী নিয়ে?

জুয়েল : অনেক যোগ্য ও পরীক্ষিত কোচ দল পাচ্ছেন না। আবার অনভিজ্ঞ অনেকেই এবারের মৌসুমে বড় দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। লিগে দল মাত্র ১০টি। এর মধ্যে অনেকেই বিদেশি কোচে ভরসা করে। ফলে স্থানীয়দের কাজের সুযোগ কমে যায়। লিগে দল বাড়লে স্থানীয় কোচদের কাজের সুযোগ বাড়বে। প্রিমিয়ার লিগ হওয়া উচিত কমপক্ষে ১৪ দল নিয়ে।

স্থানীয়দের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগটা কিন্তু পুরনো

জুয়েল : দেখুন, এখন দেশে অনেক সার্টিফিকেটধারী কোচ আছেন। প্রো লাইসেন্সধারী আছেন ৮-৯ জন। এর বাইরে এ লাইসেন্স কোচও অনেক। বি, সি মিলিয়ে অনেক কোচ। অথচ কয়জন কাজের সুযোগ পাচ্ছে বলেন? আমি মনে করি, সার্টিফিকেটধারী কোচ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকে বাফুফে ও ক্লাবগুলোর নজর দেওয়া উচিত। ঢাকায় কিছু কাজের সুযোগ আছে। সারা দেশে কিন্তু সেভাবে সুযোগ নেই। আবার দেখা যায় এমন কিছু কোচ আছেন, যারা এক মৌসুমে প্রিমিয়ার থেকে শুরু করে তৃতীয় বিভাগ পর্যন্ত তিন-চারটা দলকে কোচিং করান। এতে অন্যরা বঞ্চিত হয়। বাফুফের উচিত এই জায়গায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। 

কোচ হিসেবে আপনার অর্জনগুলো নিয়ে কিছু বলবেন?

জুয়েল : আমি নিজেকে কখনোই বড় কোচ দাবি করি না। ২০০৫ সালে খেলা ছাড়ার পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইউনিট কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করি। পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু ২০১৪ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সহকারী কোচ হিসেবে। আমি মারুফুল হক, সাইফুল বারী টিটু, জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর মতো দেশসেরা কোচদের সঙ্গে কাজ করেছি। অনেক বিদেশির সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে। বিভিন্ন দলের দুর্দিনে হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছি। অনেক বড় অর্জন হয়তো আমার নেই, তবে কোচিং ক্যারিয়ারে আমার অধীনে কোনো দল রেলিগেটেড হয়নি। বরং রেলিগেশন ঝুঁকিতে থাকা অনেক ক্লাবকে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে গেছি। যে তালিকায় পুলিশ, চট্টগ্রাম আবাহনী ও মুক্তিযোদ্ধা আছে। গত মৌসুমে আমার অধীনে খেলা অনেকেই এখন সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। বিশেষ করে আল আমীনের কথা বলতে পারি। ও আগের দুই মৌসুমে খুব ভালো করতে পারেনি। গত মৌসুমে বিদেশি না থাকায় আমি ওকে নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করি। যার ফলে আল আমীন  স্থানীয়দের মধ্যে সেরা গোলদাতা হয়ে সুযোগ পায় জাতীয় দলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত