রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ৫১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রকল্পের ডিপিপি (ডিটেইল্ড প্রজেক্ট প্রপোজাল) একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এ খবর পেয়ে অনশন ভেঙে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনশন শুরু করেছিল। আজ রবিবার (১৭ আগস্ট) একনেকের সভায় প্রকল্পটি পাস হলে তারা আনন্দে ফেটে পড়ে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া অনশনরত শিক্ষার্থীদের জুস খাইয়ে অনশন ভাঙান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সাতবার সংশোধনের পর বর্তমানে এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের মার্চে এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সংগীত ও ব্যবস্থাপনা-এই পাঁচটি বিভাগে মোট ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এখানে ৩৪ জন শিক্ষক, ৫৪ জন কর্মকর্তা ও ১০৭ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। অস্থায়ীভাবে শাহজাদপুর পৌর শহরের শাহজাদপুর মহিলা কলেজ ও ছাইফ উদ্দিন এহিয়া ডিগ্রি কলেজসহ ভাড়া করা দুটি বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।
গত ২৬ জুলাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি বর্জন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডিপিপি অনুমোদনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে তারা পথনাটক, শিকল ভাঙার গান ও প্রতীকী ক্লাসের আয়োজন করে।
তবে এতেও সাড়া না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে মানববন্ধন এবং রবিবার মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এরপর বুধবার রেলপথ অবরোধ এবং বৃহস্পতিবার যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সড়ক অবরোধ করে; এরপর আমরণ অনশনে যায় শিক্ষার্থীরা। অবশেষে তাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
