আইন উপদেষ্টোর বক্তব্যে বিএনপি নেতার ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০৪:২৫ পিএম

চিকিৎসকদের নিয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের দেওয়া বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। আসিফ নজরুলের বক্তব্য শুধু অযৌক্তিক নয়, এটি চিকিৎসক সমাজের আত্মমর্যাদা ও পেশাদারিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করেন তিনি।

গত শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন উপদেষ্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘চিকিৎসকরা কি ওষুধ কোম্পানির দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করছেন?’

এই অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) আয়োজিত নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও সাধারণ সভা ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

রবিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সমাজের সকল গোষ্ঠীর মধ্যে ভাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে দেশকে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু আইন উপদেষ্টার বক্তব্য তার উল্টো কাজ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আইনজীবী ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যে গোটা চিকিৎসক সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঢালাওভাবে চিকিৎসকদের ‘ওষুধ কোম্পানির দালাল’ আখ্যা দিয়েছেন এবং পেশার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা শুধু অযৌক্তিক নয়, চিকিৎসক সমাজের আত্মমর্যাদা ও পেশাদারিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। যে দেশে এখনো পিতা-মাতারা তাদের সন্তানকে সবার আগে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখেন, সেখানে এমন অনাকাঙ্খিত বক্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দায়িত্বশীল একটি পদে থাকা ব্যক্তির পক্ষ থেকে চিকিৎসক সমাজের প্রতি এ ধরনের অবিচার অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়।’

ডা. রফিকুল আরও বলেন, ‘চিকিৎসকদের যদি পেশাগত কোনো দুর্বলতা থাকে, তাহলে তা নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু তাদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ড. আসিফ নজরুল অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়টিকে ব্যবহার করে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রচারণা চালিয়েছেন। ডা. রফিক বলেন, “যেসব চিকিৎসক পার্শ্ববর্তী দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন, তাদের কাছ থেকে জানা যায় সেসব দেশেও নতুন কোনো ওষুধ বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মাঝে বিজ্ঞাপন প্রচলিত রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনা দিয়ে তিনি কি পরোক্ষভাবে সেদেশের ব্র্যান্ডিং করছেন এবং আমাদেরকে সেদেশের তাবেদার বানানোর চেষ্টা করছেন, তা প্রশ্নের উদ্রেক করে। তিনি অবিলম্বে তার বক্তব্যের অসৌজন্যমূলক অংশ প্রত্যাহার করে মর্মাহত চিকিৎসকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।’

এর আগে গত শনিবার রাতে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) থেকেও এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত