বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংযুক্তকরণ ও দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায়— “সাইদ যেদিন বুক পেতেছে, ভয় সেদিন দূর হয়েছে”, “ছাত্র সংসদ আমাদের অধিকার”, “এক দফা এক দাবি—ছাত্র সংসদ কবে দিবি”—সহ নানা শ্লোগানসম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে পদার্পণ করলেও এখনও পর্যন্ত হয়নি কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ লক্ষ টাকারও অধিক টাকা আদায় হয় ছাত্রসংসদের নামে। এ ফি নিয়ে কোথায় ব্যয় হয় তা নিয়েও শুরু থেকেই কোনো স্বচ্ছ জবাব দিতে পারেনি কেউই।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ গঠনের দাবি জোরদার করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত সপ্তাহে ছাত্রসংসদের রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য ২ দিনের আল্টিমেডাম এবং পরে আরও ৫ দিনের সময় দেন শিক্ষার্থীরা। তবে নানা জটিলতায় এসব দাবি ও রোডম্যাপ ঘোষণা করতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ছাত্রসংসদ হলো শিক্ষার্থীদের অন্যতম অধিকার। আমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে সেই সাথে আমাদের থেকে বছরের পর বছর এর নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক ধৈর্য ধরেছি এবার আন্দোলন করে, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে ব্রাকসু গঠন ও নির্বাচন নিয়ে আসব।
অনশরত শিক্ষার্থী আরমান বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। গত বছর ১০ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ক্যাম্পাসে এসে নানা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আজ আমরা আমরণ অনশনে বসেছি। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “আমি বেরোবির প্রথম উপাচার্য, যিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিভিন্ন মহলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। আমি বিশ্বাস করি আগামী নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।”
