ফ্লেক্সিলোডের টাকার জন্য জামায়াত নেতাকে গলাকেটে হত্যা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

 গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জামায়াত নেতা নজরুল ইসলামকে (৪০) গলা কেটে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি রিফাত মণ্ডল ওরফে সৌরভকে (১৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময়  হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারকৃত ছুরি ও দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। 

সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম। এর আগে ভোর ৫টার দিকে গাইবান্ধা জেলা শহরের মাষ্টারপাড়াস্থ নিউ মেরিট কেয়ার কোচিং সেন্টারের আবাসিক ভবন থেকে সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শীতলগ্রাম। সে ওই গ্রামের সামিউল ইসলাম ছানা মিয়ার ছেলে। 

ওসি জানান, নিহত নজরুল ইসলাম শ্রীতলগ্রামের জামতলী এলাকায় দোকান ছিল। সেই দোকানে নিয়মিত কাষ্টমার ছিল রিফাত। লেনদেনের একপযার্য়ে নজরুলের দোকানে ১ হাজার ১ শত টাকা বাকি পড়েছিল। এছাড়া দেড় মাস আগে রিফাত মণ্ডল ও তার দুই সহযোগীকে নিয়ে নজরুলের দোকান চুরি করে। চুরির সময় রিফাত স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হয়। পরে তার অভিভাবক ও স্থানীয় বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। চুরির ঘটনায় রিফাতকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর জেরে গত ১৬ আগস্ট রাতে নজরুলকে বাকি টাকা দিবে বলে রিফাত ফোন করে। 

ফোনে নজরুল ইসলাম জানায়, দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাকি টাকা নিবেন। পরে রাতে বাড়ি ফেরার সময় পথে রিফাতের সঙ্গে দেখা হয় নজরুল ইসলামের। এসময় রিফাত তার পকেট থেকে ক্লোরোফোম মিশানো রুমাল বের করে নজরুলের মুখে চাপ দিয়ে ধরে। পরে নজরুল অজ্ঞান হয়ে পড়লে রিফাত ধারাল ছুরি দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে রাস্তার পাশে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় রিফাত। 

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরি একটি পুকুরে ও মোবাইল ফোন দুটি ভিন্ন জায়গাতে ফেলে দিয়ে রাতেই কোচিং সেন্টারে চলে যায়।  

ওসি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে রিফাত। গ্রেপ্তারকৃত রিফাতকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গ গত রবিবার সকালে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের শীতলগ্রাম এলাকা থেকে নজরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি জামতলী বাজারে মোবাইলে টাকা লেনদেন (বিকাশের দোকান) ব্যবসায়ী ছিলেন। নজরুল ইসলাম জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের গোবিন্দগঞ্জে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। তার দলীয় পরিচয় একাধিক জামায়াতের নেতাগণ নিশ্চিত করেছেন। 

সকালে বাজারের অদূরে রাস্তার পাশে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত