পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২ জন ৫ দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২১ পিএম

রাজধনীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ওরিয়ন গ্রুপের কার্যালয়ে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা চাওয়ায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রেজাউল করিম পাটোয়ারী (৪৯) ও নিয়ামত আলী (৭২)। তারা দু‘জনেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়া হলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রবিবার বিকেলে রেজাউল ও নিয়ামতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন।

তিনি বলেন, ওরিয়ন গ্রুপের কাছে পাওনা টাকা নিতে আসছেন। কিন্তু তাদের কাছে কোনও সঠিক কাগজপত্র নেই। আবার পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে ওরিয়ন গ্রুপের সদস্যদের সন্দেহ হলে থানায় খবর দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ ওরিয়ন গ্রুপের কার্যালয়ে গিয়ে তাদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার কালে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাগজপত্রাদি, ভিজিটিং কার্ড, মোবাইল ফোন, ২টি পুলিশ ক্যাপ ও পুলিশের স্টিকার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

ওসি আরও জানায়, আসামি রেজাউল ও নিয়মত উভয় পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা। রেজাউল পুলিশের বরখাস্তকৃত সদস্য এবং নিয়ামত সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তারা পেশাদার প্রতারক। গ্রেপ্তারকৃত উভয়কে সোমবার সকালে প্রতারণার মামলায় রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত গ্রেপ্তারকৃত দু‘জনকে ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওরিয়ন গ্রুপের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কার্যালয়ে গত ১৭ আগস্ট বিকালে দুজন লোক প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। মেসার্স জালাল উদ্দিন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া রশিদের ৫৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৫ টাকা টাকাসহ অতিরিক্ত আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং উক্ত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে কোড পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তখন বকেয়া সংক্রান্ত টাকার তথ্য প্রমাণ দেখতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে সরকারি কাগজপত্রাদি বলিয়া দেখাতে অস্বীকার করে। ওরিয়ান গ্রুপ যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ফোন করলে তাৎক্ষণিক ওসির নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শকসহ (তদন্ত) পুলিশের একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে এসে আসামিদের পরিচয় জানতে চাইলে নিয়ামত নিজেকে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) হিসেবে দাবি করে। রেজাউলকে ডিএমপির ইউনিফর্ম পরিধানের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারে নাই বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত