চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা নিরসনে ক্যাম্পাসজুড়ে চালু করা হয়েছে ইলেকট্রনিক কার (ই-কার)। ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গাড়ির সংখ্যা ও পরিবহন রুট বাড়ানোর দাবি শিক্ষার্থীদের।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ে ই-কার চলাচলের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়াহ্ইয়া আখতার।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত পরশু সোমবার ক্যাম্পাসে প্রথম দফায় ৬টি গাড়ি আনা হয়। উদ্বোধনের দিন মোট ১০টি ই-কার চালু করা হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের সেবা ও খরচের বিষয় বিবেচনা নিয়ে ভবিষ্যতে গাড়ির সংখ্যা ধাপে ধাপে ৪০টিরও বেশি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ই-কার সেবা পরিচালনা করছে গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কোম্পানি। গাড়িগুলোর পার্কিং স্থাপন করা হয়েছে মেরিন সাইন্স অনুষদ প্রাঙ্গণে গাড়িগুলোর পার্কিং স্টেশন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পার্কিং স্টেশন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ক্যাম্পাসে ই-কারগুলো পরীক্ষামূলকভাবে দুটি রুটে চলবে। প্রথম রুটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট মোড় থেকে বায়োলোজিকাল ফ্যাকাল্টি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় রুট জিরোপয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী মোড় হয়ে ২নং গেট অতিক্রম করে আইন অনুষদ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ হয়ে ফের জিরোপয়েন্টে এসে পৌঁছাবে।
ই-কারের টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাস জুড়ে চালু হওয়া প্রতিটি ই-কারের ধারণক্ষমতা ড্রাইবারসহ ১৪ জন। ই-কার গুলো পরিবেশবান্ধব। কারণ এসব গাড়িতে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়না। এগুলো বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দিয়ে সচল রাখা হয়।
ই-কার চালুর পূর্বে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের মাধ্যম ছিল রিক্সা ও সিএনজি। যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে হতো। প্রতিটি রিক্সার ভাড়া সর্বনিম্ন ১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০ টাকা এবং সিএনজিতে জনপ্রতি ভাড়া সর্বনিম্ন ৭ টাকা ও সর্বোচ্চ ১২ টাকা। যা শিক্ষার্থীদের বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। ই-কারে দূরত্ব বিবেচনায় জনপ্রতি ভাড়া সর্বনিম্ন ৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২০ টাকা। তবে ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কিছুকিছু ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে বলে মতামত দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বিবেচনায় এতো কম সংখ্যক গাড়ি পর্যাপ্ত সেবা দিতে হিমশিম খেতে পারে। স্থায়ী সমাধান হিসেবে গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তাছাড়া আবাসিক হল ও অনুষদের দূরত্ব বিবেচনায় আরও রুট বানানো প্রয়োজন।
চবি শিক্ষার্থী মাহমুদউল্লাহ বলেন, “ই-কার চালু হওয়াতে আমরা বেশ খুশি। আমাদের এতো বড় ক্যাম্পাসে ই-কার সেবা চালু থাকলে শিক্ষার্থীসহ সবার ভোগান্তি কমবে। তবে ভাড়া নির্ধারণ সঠিকভাবে করা হয় নি। এটা আরও বিবেচনা করতে হবে। স্থায়ী সমাধান হিসেবে বাড়াতে হবে সংখ্যা ও রুট।”
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন রাত ১০ টা পর্যন্ত ই-কার সেবা চালু থাকবে। যেহেতু শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে আমরা ই-কার চালু করা হয়েছে, তাই ই-কারের নিরাপত্তা ও যত্নের প্রতি শিক্ষার্থীদেরকেও সচেতন থাকতে হবে। শুরুর দিকে, ক্যাম্পাসে থাকা রিকশা চালক ও সিএনজি চালকদের মধ্যে থেকে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসবে। কেননা তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একচেটিয়াভাবে রিকসা বা সিএনজি চালিয়েছে। ই-কারের কারণে তাদের রোজগারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর সব কিছুতে তারা ধীরে ধীরে সহনশীল হয়ে যাবে।”
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “এই গাড়ি চালানো বেশ সহজ এবং এর ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি অনুরোধ করতে চাই, যারা এই ই-কার চালাবেন, তারা আমাদের সম্মানিত ড্রাইভার। তারা লোকাল হোক বা যেই হোক, শিক্ষার্থীরা যেন তাদের সাথে সদয় আচরণ করে এবং ড্রাইভার সাহেবরাও যেন শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তান, ছোট ভাই-বোনের মতো মনে করেন। সবাই যেন এ সেবার সুবিধা নিতে পারে সেই প্রত্যাশা করছি।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত ভোগান্তি সমাধানে আন্দোলন করে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ২৩০০ একর হওয়ায় আবাসিক হল থেকে ক্লাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হন শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসজুড়ে চক্রাকার বাস চালু করার দাবি জানালে চবি প্রশাসন সেটা কার্যকর করলেও কিছুদিন পর চক্রাকার বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ ই-কার চালু করার ঘোষণা দেয়। চলতি বছরের ১৩ মে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ই-কার চালু করা হয়।
