গাজা দখল অভিযানের আগে ৬০ হাজার রিজার্ভ প্রস্তুত ইসরায়েলের

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৬:১৭ পিএম

গাজা সিটি পুরোপুরি অধীগ্রহণের লক্ষ্যে পরিকল্পিত স্থল অভিযানের আগে রিজার্ভে থাকা প্রায় ৬০ হাজার সেনা প্রস্তুত থাকতে বলেছে ইসরায়েল।

এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, রিজার্ভ সেনারা সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্বে যোগ দেবেন। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের বেশিরভাগই নিয়মিত বাহিনীর সদস্য হবেন। অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই জায়তুন ও জাবালিয়া এলাকায় সেনারা অভিযান চালাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মঙ্গলবার পরিকল্পনাটিতে অনুমোদন দিয়েছেন এবং এ সপ্তাহের শেষে এটি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, গাজা সিটির কয়েক লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণ গাজায় আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর অনেকে এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে নতুন এ অভিযান ও বাস্তুচ্যুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ২২ মাসের লড়াই করা ক্লান্ত বাসিন্দাদের ওপর ‘ভয়াবহ মানবিক প্রভাব’ ফেলবে।

গত মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েল সরকার গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা অভিযানের আগে সমঝোতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও গাজায় আটক থাকা প্রায় ৫০ জিম্মির মধ্যে অর্ধেক মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। হামাস সোমবার প্রস্তাবটি গ্রহণ করার কথা জানায়।

তবে ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। মঙ্গলবার ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা আর কোনো আংশিক চুক্তি মেনে নেবেন না। তারা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চান যার অধীনে সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। ধারণা করা হয়, এ বন্দিদের মধ্যে মাত্র ২০ জন বেঁচে আছেন।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অপারেশন গিডিয়নের রথের’ পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানটি শুরু হয়েছিল মে মাসে।

এছাড়া, আগে থেকে প্রস্তুত রাখা ২০ হাজার রিজার্ভ সেনার বর্তমান দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হবে।

হারেৎজ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ মঙ্গলবার বলেন, অভিযান শেষ হলে গাজার চেহারা বদলে যাবে। আর আগের মতো থাকবে না। গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণে, বিশেষ করে উপকূলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনারও অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। সেখানে সেনারা অতিরিক্ত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র ও অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সেনাদের লক্ষ্য হলো হামাসের হাতে আটক সব বন্দিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনটিকে ‘সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত