একই দিনে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন ইমরানুর রহমান ও সুমাইয়া দেওয়ান। সামার মিটের প্রথম দিনে ১০০ মিটারে হারানো মুকুট ফিরে পেয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুই স্প্রিন্টার। যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইমরানুর রহমান চোটের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্র্যাকে নামেননি, খেলেননি জাতীয় মিটে। সুযোগে দ্রুততম মানব হয়েছিলেন নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল। ছয় মাস পর ফিরেই হারানো মসনদ নিজের করে নিয়েছেন ইমরান। সুমাইয়া দেওয়ানের অপেক্ষাটা অবশ্য কয়েক বছরের। সর্বশেষ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হওয়া জাতীয় মিটে ১০০ মিটারে সেরা হয়েছিলেন তিনি। এরপর টানা তিন জাতীয় মিটে হেরে যান সতীর্থ শিরিন আক্তারের কাছে। শুক্রবার সেই শিরিনকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হায়িয়ে দেন সুমাইয়া।
বিকেলে প্রথমে হয় পুরুষ বিভাগের ফাইনাল। সেখানে ইমরানের মূল লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল সতীর্থ ইসমাইলের সঙ্গে। তবে জাতীয় মিটের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মতো পারফরম্যান্স দিতে পারেননি ইসমাইল। তাকে শেষ করতে হয়েছে তিনে থেকে। ইমরানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েও পারেননি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আবদুল মোতালেব। ইমরান ১০.৬৪ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন ছুঁয়ে উল্লাসে মেতেছেন। যদিও এটা তার সেরা থেকে অনেক দূরে। মোতালেব রুপা জিতেছেন ১০.৮৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। আর ইসমাইল তিনে শেষ করেন ১০.৮৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে। চোটের কারণে প্যারিস অলিম্পিকে ভরাডুবি ঘটেছিল ইমরানের। সেই চোট থেকে মুক্তি পেতে তাকে যেতে হয়েছিল ছুরি-কাঁচির নিচে। এখন আছেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে। নিজেকে শতভাগ ছন্দে ফিরে পেতে আরও সময় লাগবে। তারপরও হাফ ফিট ইমরানও স্থানীয় প্রতিপক্ষের কাছে থাকলেন অজেয়। আগে সবার সেরা হয়েছিলেন সেনাবাহিনীর হয়ে। এবার তিনি দৌড়েছেন নৌবাহিনীর হয়ে। নতুন সংস্থাকে সেরা সাফল্য এনে দিতে পেরে সন্তুষ্ট ইমরান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি নৌবাহিনীর জন্য জিতেছি। তারা আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। আমার ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে। আপনারা জানেন, প্যারিসের পরের সময়টা আমার জন্য কঠিন ছিল। চোটে পড়েছিলাম। অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আমি হাঁটতে পারিনি, জগিং করতে পারিনি। ওই সময় নিজেকেই জিজ্ঞেস করতাম, আমি কবে আবার দৌড়াতে পারব? তবে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমি আবার দৌড়ানোর সুযোগ পেয়েছি, যেটা অসাধারণ ব্যাপার। এটা আমার ফিরে আসার দৌড়। আমি শুধু চেয়েছি ঠিকঠাকভাবে দৌড়টা শেষ করতে।’
পুরুষ ১০০ মিটারের ফলটা অনুমিতই ছিল। নারীদের ১০০ মিটারেও ফেভারিট ছিলেন ১৬ বারের দ্রুততম মানবী শিরিন। তবে সুমাইয়া এদিন তাকে থমকে দিয়েছেন। ১২.১৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন সুমাইয়া। যদিও হারটা সহজে মেনে নিতে পারেননি শিরিন। দৌড় শেষে নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন। তবে ইলেকট্রনিক টাইমার, টাইম কিপার ও ফটো ফিনিশে সুমাইয়ার সেরা হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
শিরিন দৌড় শেষে বরাবরের মতো উদযাপন করেছিলেন নৌবাহিনীর পতাকা নিয়ে। তবে সুমাইয়াকে বিজয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত শিরিন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সুমাইয়ার পক্ষে রায় দেয় ফেডারেশন। সব প্রমাণেই দেখা যায় শিরিন দৌড় শেষ করেন ১২.২১ সেকেন্ডে। শিরিন হার না মেতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান। সুমাইয়াকে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া দিতেও বাধা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন চ্যালেঞ্জ করার কথা। তবে ট্র্যাকের মতো চ্যালেঞ্জেও হেরে গেছেন শিরিন।
ফের সেরার মুকুট ফিরে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত সুমাইয়া, ‘অনেক পরিশ্রম করে সেরা হয়েছি। এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমার কোচ (মেহেদী হাসান) যেভাবে ট্রেনিং করিয়েছেন সেভাবেই ফল পয়েছি। এখন আমি এসএ গেমসে সুযোগ পেলে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।’
সামার মিটের প্রথম দিনে হয়েছে দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ড। পুরুষ ডিসকাস থ্রোতে ৪৬.৯৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আব্দুল আলিম। এই ইভেন্টে ২০১০ সালে একই সংস্থার আজহারুল ইসলামের রেকর্ড ছিল ৪৪.৯৮ মিটার। নারী শটপুটে সেনাবাহিনীর জান্নাত বেগম ১৩.৯১ মিটার অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। এই ইভেন্টে আগের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাকিয়া আক্তারের (১৩.৫২ মিটার)।
