কুমিল্লায় দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-মা ও দুই সন্তানকে পাশাপাশি কবরে দাফন

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৪১ এএম

ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায় ফিরছিলেন ওমর আলী ও তার স্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন তাদের দুই ছেলে—একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, অন্যজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। বাড়ি পৌঁছাতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল। কিন্তু পথেই প্রাণ গেল চারজনের।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায়। মহাসড়কের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্নে তাদের প্রাইভেটকারটির ওপর উল্টে পড়ে একটি সিমেন্টবোঝাই কাভার্ডভ্যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওমর আলী, তার স্ত্রী নুরজাহান, বড় ছেলে আবুল হাসেম স্বপন এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম মামুন।

এদিন রাত ১১টার দিকে বরুড়ার পয়ালগাছা ইউনিয়নের হোসেনপুর বেপারী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় চারজনকে। এর আগে হোসেনপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার বিকালে মরদেহ গ্রহণ করতে ময়নামতি হাইওয়ে থানায় হাজির হন স্বজনরা। প্রিয়জনদের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদুয়ারবাজার এলাকার ইউটার্নটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এ দুর্ঘটনার জন্য অনেকেই সেই ইউটার্নকেই দায়ী করছেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পদুয়ারবাজার এলাকায় ইউলুপ নির্মাণের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কাজের সময়সীমা ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত, তবে রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কাজ শেষ হলে ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।

নিহত ওমর আলীর ছোট ভাই মহরম আলী বলেন, আমার ভাইয়ের পরিবারটা কতটা গুছানো ছিল! সুখী পরিবারটা এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। কেমনে মেনে নেব আমরা!

চাচাতো ভাই সাব্বির হোসেন সুমন বলেন, এ পরিবারটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে শিক্ষিত পরিবারগুলোর একটি ছিল। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

নিহত আবুল হাসেম স্বপন রাজধানীর কল্যাণপুরে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি ব্যাংক এশিয়ার মিরপুর রুপনগর শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। দুই সন্তানের জনক। গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন। 

এ বিষয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, কাভার্ডভ্যানটি সিমেন্ট বোঝাই ছিল। আমাদের রেকার কম ধারণক্ষমতার হওয়ায় বড় ক্রেন এনে উদ্ধার করতে হয়েছে। এতে বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা পৌঁছানোর আগেই চারজনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, মরদেহ পরিবারের অনুরোধে বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত