মিশরের উপকূলে পানির নিচে লুকানো প্রাচীন শহরের সন্ধান

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৫ এএম

মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রের তলদেশে প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এক নগরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাচীন কানোপাস নগরীর সম্প্রসারিত অংশ। উদ্ধার অভিযানে কিছু নিদর্শন পানির নিচ থেকে তুলে আনা হয়েছে।

উদ্ভাবিত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ভাঙা মূর্তি, চুনাপাথরের ভবন, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসাবশেষ, বিভিন্ন প্রত্নবস্তু এবং ডকইয়ার্ডের অবশিষ্টাংশ। 

মিশরীয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আবু কির উপসাগরের গভীরে ডুবে থাকা এই শহরটি প্রাচীন কানোপাস নগরের সম্প্রসারিত অংশ হয়ে থাকতে পারে।

টলেমীয় শাসনামলে প্রায় ৩০০ বছর এবং রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আরও ৬০০ বছর সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল এই শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ভূমিকম্পের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহর এবং নিকটবর্তী বন্দর হেরাক্লিয়ন পানির নিচে তলিয়ে যায়।

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযানে ক্রেনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ভাস্কর্য সমুদ্রতল থেকে তোলা হয়। ডুবুরিরা তীরে দাঁড়িয়ে এই প্রক্রিয়ায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রী শরিফ ফাতি বলেছেন, “সাগরের নিচে এখনও অসংখ্য নিদর্শন রয়ে গেছে। তবে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী শুধু কিছু জিনিসই আমরা তুলে নিচ্ছি, বাকিগুলো আমাদের জলমগ্ন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই থাকবে।”

উদ্ধার হওয়া নিদর্শনের মধ্যে চুনাপাথরের ভবনগুলো সম্ভবত উপাসনালয়, আবাসিক ভবন বা বাণিজ্য ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। এছাড়া জলাধার ও শিলাকাটা পুকুরও পাওয়া গেছে, যা ঘরোয়া পানি সংরক্ষণ এবং মাছ চাষে ব্যবহৃত হত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে রাজপরিবারের ভাস্কর্য এবং রোমান-পূর্ব যুগের স্ফিংক্স মূর্তি। তবে অনেক মূর্তিই অসম্পূর্ণ; কোনোটি মস্তকবিহীন, আবার কোনোটি আংশিকভাবে ভাঙা। যেমন, গ্রানাইটের একটি টলেমীয় ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্যটির মাথা নেই, আর মার্বেলের তৈরি এক রোমান অভিজাত ব্যক্তিত্বের মূর্তির কেবল নিম্নাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

উদ্ভাবিত নিদর্শনের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ, পাথরের নোঙর এবং প্রাচীন ক্রেনও রয়েছে। ১২৫ মিটার দীর্ঘ নোঙরঘাট ব্যবহার হত টলেমীয় ও রোমান যুগের ছোট নৌকার জন্য, যা বাইজান্টাইন আমল পর্যন্ত সচল ছিল।

ইতিহাসখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া আজও অসংখ্য প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের কেন্দ্র। তবে শহরটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছর প্রায় ৩ মিলিমিটার করে ডুবে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়ার এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবে বা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত