ফতুল্লা স্টেডিয়ামের করুণ অবস্থা দেখে কাঁদলেন বুলবুল

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম

'ফতুল্লা স্টেডিয়ামের করুণ অবস্থা দেখে আমার কান্না চলে আসছে। এখানে একসময় অসংখ্য জাতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচও হয়েছিল। অথচ এই মাঠটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত করুণ।' এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর এলাকায় জেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত *ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আইডিয়া* অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি ফতুল্লার রিয়া গোপ স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হুসাইন, মডেল গ্রুপের মালিক ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জাকারিয়া ইমতিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান বিদ্যুৎ, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, “ক্রিকেটের মান উন্নয়নে গ্রাউন্ড ফেসিলিটি, কোচিং ডেভেলপমেন্টসহ চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কোচিংয়ের ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে। দেশের অসংখ্য পরিবার ছেলে-মেয়েদের ক্রিকেটে যুক্ত করেছে। আমরা চাই, ক্রিকেট তাদের ভালো মানুষ ও দেশের ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলুক।”

নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে এনে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ আমাদের জন্য আইডল ছিল। আমি যখন ক্রিকেট শিখছিলাম, তখন নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এখানে নানা লিগ হতো, বিভিন্ন ক্লাবে খেলা চলত। এখানকার অসংখ্য খেলোয়াড় ঢাকায় গিয়ে খেলেছে। এখনো নারায়ণগঞ্জে ক্রিকেটের প্রতি সেই আগ্রহ দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত।”

স্টেডিয়ামের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বুলবুল বলেন, “খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা দরকার। এখানে এসে দেখলাম মাত্র ৩টি উইকেট। আমাদের পরিকল্পনা অন্তত ২০টি উইকেট তৈরি করা। আগে নির্দিষ্ট সময় ক্রিকেট হতো, এখন ১২ মাসই খেলা হয়। তাই খেলোয়াড়দের জন্য স্থায়ী সুযোগ তৈরি করতে হবে। আশা করছি আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই সব উন্নয়নকাজ শুরু হবে। যাতে এখানকার খেলোয়াড়দের ঢাকায় যেতে না হয়—এখানেই কোচ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সবকিছুই আমাদের পরিকল্পনায় আছে। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, এসব বাস্তবায়ন সম্ভব। কারণ আইসিসিতে থাকাকালেও আমি একই ধরনের কাজ করেছি।”

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ক্রিকেট জীবনের একটি অংশ মাত্র। তবে এখানকার অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় একদিন দেশের আগামী দিনের তামিম কিংবা সাকিব হয়ে উঠবে। আমার ইচ্ছা নারায়ণগঞ্জে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম করার। তাহলে ক্রিকেটাররা সারাবছর খেলার মধ্যে থাকতে পারবে।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত