রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে গত শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নারী-শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একদিন পার হয়ে গেলেও গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরা নিয়ে তদন্ত করেছে থানা-পুলিশ।
গত শনিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর ঘাট ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরেজ ঘাট থেকে ভাসমান অবস্থায় চার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পরিচয় মেলেনি বলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে। লাশগুলো বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় সদরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহাগ রানা বলেন, শনিবার দুপুরে আমরা ২টি মরদেহ উদ্ধার করি। এর মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু। নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ ও ছেলে শিশুটির বয়স ৩ বছর। তাদের গলায় ফাঁস ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওসি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরেজের কাছ থেকে ভাসমান অবস্থায় আসা নারীর মরদেহের গলায় কালো রঙের বোরকা পেঁচানো ও পরনে গোলাপি রঙের সেলোয়ার-কামিজ ছিল। ওই নারীর লাশ উদ্ধারের এক ঘণ্টা পরে একই স্থান থেকে ওড়না দিয়ে পেঁচানো ৩ বছরের এক ছেলেসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কেরানীগঞ্জের বরিশুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর মো. মোক্তার হোসেন বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের মাদারীপুর জামে মসজিদের কাছ থেকে ৪০ বছরের এক পুরুষ ও ৩০ বছরের এক নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পুরুষের পরনে কালো প্যান্ট ও চেক ফুল শার্ট রয়েছে। নারীর পরনে রয়েছে ছাই রঙের গেঞ্জি ও লাল রঙের সেলোয়ার। তাদের শরীরে আঘাতের সামান্য চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, কেরানীগঞ্জে মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরেজের কাছ থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর জিনজিরা ইউনিয়নের মাদারীপুর জামে মসজিদের কাছ থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ অজ্ঞাত মামলা করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
একদিনে চারটি লাশ পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। লাশগুলোর পরিচয় শনাক্তের জন্য গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়েছে থানা পুলিশ।
