হরমুজে পশ্চিমাদের জাহাজে বিধিনিষেধের হুমকি ইরানের

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০১ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিনিধি হোসেইন শারিয়তমাদারি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে পশ্চিমা দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে তেলের দাম এক লাফে ২০০ ডলার ছুঁতে পারে এবং এতে ইরানের শত্রুরাই সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারিয়তমাদারি বলেন, “আমরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে বাধা দিতে পারি। শুধু এ ধরনের ঘোষণা দিলেই তেলের দাম ২০০ ডলার হবে, আর শত্রুরা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আঘাত পাবে।”

এটি শারিয়তমাদারির প্রথম বক্তব্য নয়। গত বছর ইউরোপ ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে তিনি ওই সময়ও প্রস্তাব দিয়েছিলেন—শত্রু দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে না দেওয়ার। যদিও সে সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, এ ধরনের হুমকি আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়নি, তবে তা করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরও দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা আবারও হরমুজ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ইরান প্রণালী বন্ধ করে, তবে তা হবে ভয়াবহ ভুল। এটা তাদের জন্য অর্থনৈতিক আত্মহত্যার সমান।” তিনি একই সঙ্গে চীনকে আহ্বান জানান, যেন তারা ইরানকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস ওই সময় বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে “অত্যন্ত বিপজ্জনক”। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, এটি হবে “আত্মঘাতী পদক্ষেপ, যা কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন করে তুলবে।”

বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান কখনো পুরোপুরি প্রণালী বন্ধ করেনি, তবে একাধিকবার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করেছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস–ঘনিষ্ঠ জাভান পত্রিকা জুলাইয়ে লিখেছিল, তেহরান যদি তেল পরিবহন সীমিত করে, তবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র চরম সংকটে পড়বে। এমনকি যেসব দেশের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পত্রিকাটির দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে বৈশ্বিকভাবে জাহাজ পরিবহন ও বীমা খরচও বেড়ে যাবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, জুনে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে কয়েকটি জাহাজে নৌ-মাইন তুলেছিল, যদিও সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির কথা ভাবছিল, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ভেঙে দিতে পারে।

এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ইরানের সংসদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার প্রস্তাব পাস হয়। তবে সেটি ছিল অ-বাধ্যতামূলক।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যশনাল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত