বয়সে-অভিজ্ঞতায় বাবর আজমের অনেক জুনিয়র হয়েও তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে মন্তব্য করায় মোহাম্মদ হারিসের ওপর বেজায় চটেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েও বাবরকে কেন এই সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা কারও অজানা নয়।
তাঁর স্ট্রাইক রেট এখনকার যুগের টি-টোয়েন্টির দাবি মেটাতে পারছিল না। বিশ্বের বেশির ভাগ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান যেখানে পাওয়ারপ্লের সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু থেকেই মারমুখী ব্যাটিং করেন, সেখানে বাবরের থিতু হতে হতেই পাওয়ারপ্লে শেষ হয়ে যেত।
সেই বাবরকে নিয়ে মাত্র ২৩ টি টোয়েন্টি ও ৬ ওয়ানডে খেলা মোহাম্মদ হারিস সম্প্রতি এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে বলেন—“বাবরকে টি-টোয়েন্টিতে আরও দ্রুত খেলতে হবে। সিনিয়ররা যদি সুযোগ ছাড়ে, তাহলে জুনিয়ররা নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে।”
কিন্তু তার এই মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়েছেন বাসিত আলী বলেন। এক ইউটিউব অনুষ্ঠানে ৫৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার বলেন, “যদি মোহাম্মদ হারিস বলে বাবর আজমকে উন্নতি করতে হবে, আমি মনে করি ওকে লাঠি দিয়ে পেটানো উচিত। হারিস, তুমি বাবর আজমকে নিয়ে কথা বলার কে?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—“আজ বাবর অধিনায়ক নেই বলেই হারিস এসব বলছে। বাবর যদি এখনো অধিনায়ক থাকত, তাহলে কি এমন কথা বলত?”
শুধু বাসিত নন, সাবেক পেসার তানভির আহমেদও হারিসকে একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন—
“প্রথমে নিজের ভ্যালু তৈরি করো, তারপর বাবরের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় নিয়ে কথা বলো।”
উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা ছিলেন। দু’জনে মিলে করেছেন ৩,৩০০ রান গড়ে ৪৬.৪৭–এ। বাবর একাই খেলেছেন ১২৮ ম্যাচ, করেছেন ৪,২২৩ রান স্ট্রাইক রেট ১২৯.২২–এ, যা তাকে টি২০আই ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বানিয়েছে।
তবে ২০২৪ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর থেকেই বাবর-রিজওয়ানকে টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় রাখেনি পিসিবি। আর সেই শূন্যতাতেই চলছে সমালোচনা আর বিতর্ক।
×
