পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে বন্যাদুর্গত মানুষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্চিত হয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের একটি টিম। জানা গেছে, শনিবার পাঞ্জাব এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির সদস্যরা হামলা চালিয়ে তাদের এলাকা থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়।
জিও নিউজের প্রতিবেদক ইরফানুল্লাহ জানান, তিনি ও ক্যামেরাম্যান আলী আরসালান স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছিলেন। বন্যাদুর্গতরা অভিযোগ করছিলেন, জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা ত্রাণশিবিরগুলো অনেক দূরে। সেখানে পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই।
অনেক গ্রামবাসী বলেছেন, শুধু পরিবার নয়—গবাদি পশুও সরিয়ে নিতে হবে যা তাদের জীবিকার প্রধান ভরসা। এ কারণেই তারা স্থানত্যাগে অনিচ্ছুক। জিও নিউজ জানিয়েছে, এই পর্যায়ে পাঞ্জাব এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির আঞ্চলিক পরিচালক প্রায় ২৫-৩০ জন সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন।
ইরফানুল্লাহ বলেন, তারা যখন দেখল মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলছে তখনই অসদাচরণ শুরু করে। আমাদের এলাকা ছাড়তে বলে। আমাদের ক্যামেরাম্যানকে চড় মারা হয় এবং ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়। পরে আমাদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়, যদিও সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাঞ্জাব এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি। আঞ্চলিক পরিচালক জুবায়ের গিলানি বলেন, ওই মিডিয়া টিম প্রায় ১৫০ জন মানুষকে নদী তীরে জড়ো করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা কারো জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অনুমতি দিই না। ওই টিম ও মানুষকে নদীর পাড় থেকে সরিয়ে নিতে বলেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা হয়নি। যদি তারা মনে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে দূরে রাখা।
এদিকে বন্যাদুর্গত গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন কেবল মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে, কিন্তু কোথায় যেতে হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই।
তারা বলেন, আমরা জানি না কোন ত্রাণশিবিরে যাব। আমাদের ক্ষেত খেত পানির নিচে, গবাদি পশুর খাবার নেই, আর আমরা ঘরবাড়ি ও জীবিকা দুটোই হারাচ্ছি।
জিও নিউজ জানিয়েছে, রাভি নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা মূলত গবাদি পশুর ওপর নির্ভরশীল। একদিকে তলিয়ে যাওয়া জমি আর অন্যদিকে স্থানচ্যুতি— সব মিলিয়ে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন তারা।
