বাংলাদেশিদের জন্য অবকাশ ভ্রমণে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে সৌদি

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম

এতদিন পর্যন্ত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে সৌদি পরিচিত থাকলেও ইদানীংকালে দেশটি পর্যটনপ্রেমীদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় হজ ও উমরাহ মেলায় সৌদি ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ তাদের জাতীয় পর্যটন ব্র‍্যান্ড ‘সৌদি: ওয়েলকাম টু এরাবিয়া’ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। মেলায় সৌদির বিভিন্ন বিভিন্ন পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ দর্শকদের সামনে তুলে  ধরা হয়। ধর্মীয় যাত্রার পাশাপাশি যারা সৌদির অজানা ঐতিহাসিক, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণগুলো সম্পর্কে জানতে বা উপভোগ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজ অফার করা হয়।

সৌদি ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষের ট্রেড পার্টনার হিসেবে পরিচিত আবাবিল হজ গ্রুপস, আমদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং আমীন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশিদের জন্য উপযোগী উমরাহ প্লাস প্যাকেজের মাধ্যমে সৌদি লোহিত সাগর ক্রুজ থেকে শুরু করে দিনব্যাপী সিটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ট্যুরসহ বৈচিত্র‍্যময় বিভিন্ন অবকাশ প্যাকেজ অফার করে।

মেলা ভিজিটকারী কয়েক হাজার দর্শক সৌদির বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করে, যার মধ্যে ছিল- রেড সি ক্রুজ, তায়েফ ভ্রমণ, জেদ্দা সিটি ট্যুর ইত্যাদি।

সৌদির ভিশন ২০৩০ এর অধীনে দেশটিকে একটি বৈশ্বিক পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যাকেজগুলোতে সৌদির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক আতিথেয়তা ইত্যাদির সমন্বয় করা হয়েছে।

বাংলাদেশিদের মধ্যে ইদানীংকালে ধর্মীয় যাত্রার সঙ্গে অবকাশ যাপনের সমন্বয় করার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সৌদির যেসকল স্থান এবং বিষয় বাংলাদেশীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে সেগুলো হলোঃ

• সৌদি লোহিত সাগর: স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল প্রাচীর, বিলাসবহুল রিসোর্ট, বিশ্বমানের ওয়াটার স্পোর্টস এবং ইকোট্যুরিজমের জন্য এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়।

• জেদ্দা: ঐতিহাসিক এই নগরীতে রয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আল-বালাদ, লোহিত সাগর তীরবর্তী প্রানবন্ত জেদ্দা কর্নিশ, আধুনিক শপিংমল, সাংস্কৃতিক উৎসব এবং পবিত্র মক্কা ও মদীনার কাছাকাছি অবস্থান হওয়াতে এর পর্যটন গুরুত্ব অনেক। নগরীটিতে ঐতিহ্য, শিল্প, কুইজিন এবং সমসাময়িক লাইফস্টাইলের এক অপূর্ব সমন্বয় পরিলক্ষিত হয়।

• তায়েফ: অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন গন্তব্য এর শীতল পাহাড়ি জলবায়ু, দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতি, গোলাপের বাগান এবং ঐতিহ্যবাহী বাজার একে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। গ্রীষ্মকালীন রিসোর্ট, ঐতিহাসিক বিভিন্ন সাইট, সাংস্কৃতিক উৎসব ইত্যাদির কারণে মরুভূমির তীব্র গরমে স্বাচ্ছন্দ্যময় অবকাশের একটি আদর্শ স্থান।

• আলউলা ও মাদাইন সালেহ (হিজরা): প্রাচীন ইউনেস্কো হেরিটেজ স্ট্যাটাসপ্রাপ্ত এই এলাকাটিতে রয়েছে প্রাচীন নাবাতিয়ান সমাধি, শিলাস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিষ্ময়ের জন্য প্রসিদ্ধ। যারা ইতিহাস, সংস্কৃতি, মরুভূমির প্রকৃতি এবং অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে আগ্রহী, তাদের জন্য একটি আদর্শ স্থান।

• আভা: শীতল জলবায়ুর জন্য এটি সৌদির অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। এখানে রয়েছে নয়নাভিরাম পর্বতমালা, ঘন সবুজ প্রকৃতি, কেবল কার এবং সমৃদ্ধ আসির সংস্কৃতির ছোঁয়া। হেরিটেজ পল্লী, প্রাণবন্ত শিল্পকর্ম এবং প্রাকৃতিক পর্যটনের সুবিধার কারণে এটি গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য আদর্শ।

• বদরের যুদ্ধক্ষেত্র: ইসলামী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের ময়দান, যা আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক বিচারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

• খায়বার: খায়বার যুদ্ধের জন্য পরিচিত এটি একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে রয়েছে ইসলামী ঐতিহ্যের বিভিন্ন স্থাপনা, প্রাচীন দুর্গ, আগ্নেয় শিলার প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

ভিশন ২০৩০ এর অংশ হিসেবে সৌদি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৩০ লক্ষাধীক ভ্রমণকারীকে স্বাগত জানানোর লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করেছে। এজন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও দ্রুততর করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণকারীরা নির্ঝঞ্ঝাটে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি সৌদির পর্যটন অফারগুলো উপভোগ করতে পারেন। উভয় দেশের মধ্যে সপ্তাহে ৫০টির অধিক ফ্লাইট চলাচল করছে, যার ফলে সৌদি ভ্রমণ এখন আগের তুলনায় আরো সহজ ও সুবিধাজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত