কুমিল্লা নগরীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহরম আলী (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত মহরম আলী নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ছিলেন পেশায় অটোরিকশাচালক। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কাটাবিল এলাকার শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় গতকাল রাতে মহরমের বড় বোন রুনা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে যাদের নাম আছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন-কাটাবিল এলাকার অপু হোসেন (৪০), ইমরান, বাপ্পি, শ্যামল, জাবেদসহ আরও কয়েকজন। পুলিশ অপুকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে। বাকি আসামিরা ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে মহরম আলী পাথুরিয়া পাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কাটাবিল এলাকায় পৌঁছালে ১৫-২০ জনের একটি দল অতর্কিতে তার ওপর হামলা চালায়। একাধিক কোপে মহরম গুরুতর আহত হয়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়েও তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের খালা হাসিনা বেগম বলেন, মহরম আগে মাদকাসক্ত ছিল, তবে এখন সে নেশা করত না। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, আমরা জানি না। ওর সঙ্গে থাকা অপুকে কিছু না করে শুধু মহরমকেই মারল।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্ত্রাসী আর মাদক ব্যবসায়ীরা আমার জামাইরে খুন করছে। আমার তো সব শেষ হইয়া গেল। অহন আমি পোলাপান লইয়া কেমনে থাইক্কাম, কই যামু। তারায় পরিকল্পনা করে ঘরের থেকে ডাইকা আইন্যা জামাইডারে খুন করছে। আমি তারার ফাঁসি চাই।
শারমিন জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কাটাবিলের অপু হোসেন ইমুতে ফোন দিয়ে মহরমকে দেখা করতে বলেন। এরপর তিনি মোটরসাইকেলে বের হন।
শারমিন আরও বলেন, মহরম আমাকে প্রায়ই বলত, কাটাবিলের ইমরান, বাপ্পি, শ্যামল, জাবেদরা ওরে মাইরা ফালাইব। কয়েক মাস আগে ওদের সঙ্গে ওর ঝগড়া হইছিল। শেষ পর্যন্ত ওর ভয়ই সত্যি হইল। ওরে কুপাইছে আর মাথায় গুলি করছে। মগজ পর্যন্ত বাইর হইয়া গেছে।’
এ বিষয়ে মামলার বাদী রুনা আক্তার বলেন, অপু এলাকার প্রভাবশালী। সে না চাইলে মহরমকে কেউ মেরে ফেলতে পারত না। ও-ই বাইকে তুলছে, সঙ্গে ছিল, কিন্তু খুনিরা তাকেই কিছু করেনি। বুঝতে পারছি, সে-ও পরিকল্পনার অংশ ছিল।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, অপুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, নিহত মহরমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। মাদক কারবার-সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এদিকে মহরমকে গুলি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
LIVE: ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা বলছে জামায়াত
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে যমুনায় বিএনপির প্রতিনিধিদল
কুমিল্লায় মা-মেয়েকে হত্যার অভিযোগে ছেলে ও পুত্রবধূ আটক