নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আগুনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাদের শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই বিদায় দেননি; আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের আশ্বাসও দিয়েছেন।
ব্যস্ততার মাঝেও জেলা প্রশাসক তাদের কষ্টের ঘটনাগুলো শুনেছেন। এ ঘটনায় তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে, সে ক্ষেত্রেও পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন তিনি।
গত ২৩ আগস্ট ভোররাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল এলাকার মুড়ির ফ্যাক্টরির গলিতে অগ্নিকাণ্ডে ৭ জন নিহত ও ২ জন আহত হন।
এ ঘটনায় নিহত হন শ্রমিক হাসান গাজী (৪০), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩২), মেয়ে জান্নাত (৪) ও শিশু ইমাম উদ্দিন (১ মাস)। তার আরেক মেয়ে মুনতাহা (১০) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসান গাজীর পরিবারের পক্ষে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেন নিহত হাসান গাজীর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম।
অপর পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন গার্মেন্টস কর্মী আসমা বেগম (৩৫), মেয়ে তিশা (১৭), আসমা বেগমের মা তাহেরা বেগম (৬০)। তার ১৫ বছরের ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসমা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে অনুদানের নগদ অর্থ গ্রহণ করেন স্বামী তানজিরুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার ও আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
তানজিরুল ইসলাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আমরা তো পরিবারের নিহতদের আর ফিরে পাব না। কিন্তু উনি আমাদের যেভাবে সান্ত্বনা দিয়েছেন, তাতে আমাদের কষ্টটা কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। ডিসি স্যার অনেক ভালো মানুষ।”
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসক তার ছেলে আরাফাতের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খবর নেন এবং বার্ন ইউনিটের পরিচালকের সাথে আরাফাতের সুচিকিৎসার জন্য কথা বলবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
নিহত হাসান গাজীর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামও জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডিসি স্যার উনার এত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের দীর্ঘক্ষণ সময় দিয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উনার পরামর্শ চাইলে উনি সে বিষয়েও সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।”
