‘সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত তারেক রহমান সম্পূর্ণ নির্দোষ’

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:১৯ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সব আসামির খালাস রায় বহাল রাখলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাইকোর্টের আগের খালাস বহাল রাখার পাশাপাশি মামলার নতুন তদন্তের নির্দেশ বাতিল করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নতুন তদন্ত করা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়বিচার পেয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত জিঘাংসার কারণে তাকে এ মামলায় অন্যায়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাইলে তারেক রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হতো না। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

রায়ে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের আগের পর্যবেক্ষণ যে মামলাটি নতুনভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল, তা অবলুপ্ত। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত পুনঃনির্ধারণ করেছে যে, নতুন তদন্তের সিদ্ধান্ত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন।

আদালতে তারেক রহমান ও বাবরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। বিএনপির অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও আরও কয়েকজন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।

মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম অনুযায়ী, গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তারেক রহমান ও বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেয়। তখন বলা হয়েছিল, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার ছিল আইনি ভিত্তিহীন। বিচারিক আদালতের চার্জশিট আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ১ জুন আপিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের সমাবেশে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের নেত্রী শেখ হাসিনা এবং কয়েকশ নেতাকর্মী। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত ১৯ জনকে ফাঁসি এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ে সব আসামি খালাস পেয়েছেন।

এ রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপি পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে, যখন রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়ে গেছে, তখন মামলার মূল উদ্দেশ্য—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—প্রকাশ পেয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত