লতিফ সিদ্দিকী ও পান্নার জামিন নামঞ্জুর

বিচারকের সামনেই সাংবাদিককে আইনজীবীদের মারধর

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩১ পিএম

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান পান্নার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ পিয়াস জামিনের আবেদন নামঞ্জুরের এ আদেশ দেন।

এদিকে এই এজলাসে বিচারকের সামনে কয়েকজন আইনজীবীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বেসরকারি সময় টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আসিফ হোসাইন সিয়াম। লতিফ সিদ্দিকী ও মঞ্জুরুল আহসান পান্নার জামিন শুনানির সংবাদ সংগ্রহ সময় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিচারক হাসিব উল্ল্যাহ পিয়াস কিছুক্ষন এজলাসে বসে পরে নেমে যান। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।  

বৃহস্পতিবার লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক পান্নার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে হাজির করা না হলেও পান্নাকে হাজির করা হয়। আদালতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের সাংবাদিক পান্নাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৮ম তলায় ৩০ নম্বর এজলাসে তোলা হয়।

মুক্তাদির রশীদ নামের এক সাংবাদিক পান্নার কাছে জানতে চান, কারাগারে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কি না। এ সময় এজলাসের বেঞ্চে বসে থাকা অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন মাহি আসামির সঙ্গে কথা বলার কারণ জিজ্ঞাসা করে। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা তর্ক হয়। সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের হয়ে যেতে বলেন মহিউদ্দিন মাহি। 

পরে মুক্তাদির রশীদ বলেন, ‘বিচারক বললে আমি বেরিয়ে যাব।’ এ সময় একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সিয়াম এসে অ্যাডভোকেট মাহিকে বলেন, ‘উনি বহিরাগত না, একজন সাংবাদিক।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বেঞ্চ থেকে লাফ দিয়ে সিয়ামের কানে ঘুষি মারেন মহিউদ্দিন মাহি। এ সময় সিয়াম তার হাতে থাকা মাইক্রোফোন দেখিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। তবে আইনজীবী তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিতে থাকেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ওই আইনজীবীর আরও কয়েকজন সহযোগী সিয়ামকে চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি, লাথি দেন। এতে রক্তাক্ত আহত হন সিয়াম।

সিয়াম অভিযোগ করেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই বিচারকের সামনে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি কয়েকজন আইনজীবী মব সৃষ্টি করে আমাকে মারধর করল, আমি এর বিচার চাই।’

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নিন্দা:  এজলাসের ভিতরে সাংবাদিক সিয়ামকে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত