‎পেলেকে ছুঁয়ে এস্তেভাও বললেন, 'স্বপ্নপূরণ হলো'

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৫ এএম

চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের হয়ে জালের দেখা পেলেন এস্তেভাঁও। ১৮ বছর ৪ মাস বয়সে করা এই গোলেই লিখলেন ইতিহাস। পেলেকে ছাড়া এত অল্প বয়সে আর কোনো ব্রাজিলিয়ান প্রীতি ম্যাচ বাদ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে গোল করতে পারেননি।

‎১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে ১৭ বছর ৪ মাস বয়সে গোল করেছিলেন পেলে। সেই ম্যাচে করেন দুই গোল, যা ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি। দীর্ঘ ৬৭ বছর পর আবার এক কিশোর ফুটবলার ছুঁলেন সেই মাইলফলক।

‎মারাকানায় ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়া গোলের পর আবেগাপ্লুত এস্তেভাঁও বলেন—‎“প্রথমেই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। মারাকানায় ব্রাজিল জার্সিতে প্রথম গোল করা, এটা আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেছি। এই গোল আমি লন্ডনে থাকা আমার পরিবারকে উৎসর্গ করছি।”

পালমেইরাস থেকে উঠে আসা এই তরুণ 'মেসিনহো' নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি চেলসিতে যোগ দিসে স্বদেশী জোয়াও পেদ্রোর সংগে গড়ে তুলেছেন দারুন এক জুটি।

সাও পাওলোর ফ্রাঙ্কায় জন্ম এস্তেভাওয়ের ফুটবলের যাত্রা শুরু ক্রুজেইরোর একাডেমিতে ২০১৭ সালে। মাত্র ১২ বছর বয়সে ২০১৮ সালে নাইকির সঙ্গে চুক্তি করে তিনি ইতিহাস গড়েন। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা রদ্রিগোকে পেছনে ফেলে তিনি হয়ে যান নাইকির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সবচেয়ে কম বয়সী ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়।

২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর পালমেইরাসের হয়ে পেশাদার অভিষেক হয় তার। ক্রুজেইরোর বিপক্ষে ম্যাচে ৭৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর ৮ মাস বয়সে ক্লাবটির ইতিহাসে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ঘটে তার।

২০২৪ সালে কপিনহার পর আবারও আলোচনায় আসেন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল লিভারপুলের বিপক্ষে কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচে পালমেইরাসের হয়ে প্রথম গোল করেন। এর মাধ্যমে ১৭ বছরের নিচে গোল করা মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখান, আগেই এই কীর্তি গড়েছিলেন আঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল ও এন্দ্রিক।

২০২৫ সালের ৪ জুলাই পালমেইরাসের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেন তিনি, প্রতিপক্ষ ছিল চেলসি। এরপর ৮ আগস্ট বুন্দেসলিগার দল বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে প্রাক-মৌসুমী ম্যাচে নীল জার্সিতে অভিষেক হয় তার। ৫-১ ব্যবধানে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম ম্যাচ শুরুর একাদশেও নাম লেখান এই তরুণ উইঙ্গার।

২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে কুরিতিবার এস্তাদিও কৌতো পেরেইরায় জাতীয় দলের হয়ে প্রথম মাঠে নামেন তিনি। ৬১তম মিনিটে লুইজ হেনরিকের বদলি হিসেবে খেলতে নামা ম্যাচে ১–০ গোলে জয়ী হয় ব্রাজিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত