গরমে প্রশান্তির খোঁজে লাউয়াছড়ায় ভিড় পর্যটকের

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৫ পিএম

তীব্র গরমে সবুজের ছায়ায় মিশেছে মানুষের কোলাহল। গরমে একটু প্রশান্তির খোঁজে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট খ্যাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঢল নেমেছে পর্যটকের। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে ভিড় করেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে। পর্যটকদের এই আনন্দ-উদ্‌যাপনে বাধা হতে পারেনি ভ্যাপসা গরম, তপ্ত রোদ। মূলত এই গরমেও লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরে কিছুক্ষণ পর পর হচ্ছে বৃষ্টি। ফলে স্বস্তি পাচ্ছেন পর্যটকেরা।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া ভানুগাছ শ্রীমঙ্গল সড়কে পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি, মাইক্রো ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভিড়। ভ্যাপসা গরমেও কিছুক্ষণ পর পর বৃষ্টি হওয়ায় প্রকৃতি সেজেছে মনোরম পরিবেশে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় শুধু লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানেই নয়, কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক, ক্যামেলিয়া লেক, শমসেরনগর গলফ্ মাঠ, সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের পদচারনায় মুখর ছিল।

পর্যটকরা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক সৌন্দর্য রয়েছে চায়ের রাজ্যখ্যাত এই অঞ্চলে। এখানে তীব্র গরমের মধ্যেও প্রশান্তি পাওয়া যায়। চারিদিকে সবুজের সমারোহ।এখানে ঘুরতে বাহির থেকে অনেক লোকজন আসেন। অন্যান্য অঞ্চলে পাহাড় পাওয়া গেলেও একসাথে বন, বন্যপ্রাণী, চা বাগান, প্রাকৃতিক লেক পাওয়াট দুষ্কর, সেক্ষেত্রে মনে হয় যে বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গা ঘুরার চেয়ে সবার এ অঞ্চল ঘুরতে আসলে অনেক কিছু দেখতে পারবে। এতে করে বাংলাদেশের প্রকৃতির সৌন্দর্যটা উপভোগ করা যাবে।’

ট্যুরিস্ট গাইডরা জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার পর্যটক কিছুটা বেশি হয়। তবে গরমের কারণে দূরের ও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কম।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আয়তন ১ হাজার ২৫০ হেক্টর। সরকার ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। উদ্যানটি ১৬৭ প্রজাতির গাছ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ (৩৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির লিজার্ড, ২ প্রজাতির কচ্ছপ), ২২ প্রজাতির উভচরসহ অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত