রাশিয়ার ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মন্ত্রিসভা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে চালানো এই হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো। হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর এই প্রথম কিয়েভের মন্ত্রিসভা ভবন সরাসরি হামলার শিকার হলো। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার রাতভর কিয়েভে রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার সংখ্যা আট শতাধিক। সর্বশেষ হামলায় ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৬টি ড্রোন ৩৭টি স্থানে আঘাত হেনেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ ৮টি স্থানে গিয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী সিভিরিদেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলায় মন্ত্রিসভা ভবনের ছাদ ও ওপরের কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, শত্রু প্রতিদিন দেশের মানুষের ওপর ভয়ের সঞ্চার করছে। তিনি আরও জানান ভোরে ইনডিপেনডেন্স স্কয়ারের আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়, সঙ্গে শোনা যায় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ। কয়েক সেকেন্ড পর দুটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুতগতিতে ভবনের দিকে ধেয়ে আসে এবং আরেকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে এত বড় ধরনের হামলা খুবই বিরল ঘটনা, কারণ এ এলাকায় শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কিয়েভ ক্রমশ বেশি চাপের মুখে পড়ছে।
এদিকে, রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে দ্রুজবা তেলের পাইপলাইনে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি রবিবার টেলিগ্রামে বলেছেন, হামলায় পাইপলাইনটিতে বড় অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। দ্রুজবা ট্রানজিট পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া থেকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় তেল সরবরাহ করা হয়। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের মধ্যে হাঙ্গেরি ও সেøাভাকিয়া অন্যতম। ব্রোভদির এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। হাঙ্গেরির জ্বালানি কোম্পানি এমওএল জানিয়েছে, দেশটিতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তেল সরবরাহ চলছে। তবে স্লোভাকিয়ার পাইপলাইন অপারেটর ট্রান্সপেট্রলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কিয়েভ বলছে, রাশিয়ার লাগাতার হামলার জবাবে মস্কোর জ্বালানি স্থাপনায় তারা পাল্টা আঘাত হানছে। এসব হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার সামগ্রিক যুদ্ধ প্রচেষ্টা দুর্বল করা। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার এ পাইপলাইনে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে হাঙ্গেরি ও সেøাভাকিয়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
