পৃথিবীর কোনো শক্তি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের মিছিল করার প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। এর নেপথ্যে যারা সক্রিয় রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এমন নির্দেশনা দেন। এদিন বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি জানিয়েছেন।

বৈঠকের বরাত দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, মিটিংয়ে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, স্থানীয় প্রশাসন আরও সক্রিয়ভাবে যাতে যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো মোকাবিলা করে। সে বিষয়ে বৈঠকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গত কিছুদিন কিছু ঘটনা হয়েছে, সেটার আলোকেই এ বৈঠক হয়েছে বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘জুলাইকে (অভ্যুত্থান) সামনে রেখে আমাদের রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয় এবং বলা হয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সবাই মিলে, সামনের নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এ ছাড়া ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বকশ চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে, আসন্ন দুর্গাপূজায় অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নানান ষড়যন্ত্রমূলক চেষ্টা হতে পারে। গত বছর দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতা এ বছরও কাজে লাগাতে পারি এবং তিনি জোর দিয়েছেন, এবারও যেন সব ধরনের নিরাপত্তা আগে থেকেই নেওয়া হয়, যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য দেশের সব ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ধর্ম উপদেষ্টা অতি শিগগির বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে ক্রমাগতভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য, নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি রাখার বিষয়ে কথা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, সেজন্য প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন বলেন জানান প্রধান উপদেষ্টা প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, বৈঠকে আলোচনায় আসে যে, পতিত পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি যখনই দেখছে দেশ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে, তখনই তারা মরিয়া ও বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে সব শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। এটা এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার মনে করে, দেশের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

পৃথিবীর কোনো শক্তি নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না : আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে হোক ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। পৃথিবীর কোনো শক্তি এ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচন হবে এবং সেই বিষয়ে যত ধরনের প্রস্তুতি লাগে, সেগুলো নেওয়া হচ্ছে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে উন্নতি হয় সেজন্য সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের বুঝতে হবে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ গত বছর ৫ আগস্টের পর ১ হাজার ৬১৫টার মতো ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন চারটি করে ঘটনা ঘটেছে বা বিক্ষোভ হয়েছে। তার মধ্যে ৬০০টি ঘটনা ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত। একটা বিপ্লবের পড়ে যে চাওয়া তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে সবাই বিক্ষোভ করছে। সবাই তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তায় আসছেন। যেহেতু আগের সরকার গত ১৫ বছর নিপীড়ন করেছে, এ ধরনের বিক্ষোভ দমন করেছে, তাই এখন সবাই তাদের দাবিদাওয়াগুলো এ সরকারের সময় আনছেন। এ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট ধৈর্যের সঙ্গে এ বিষয়গুলো মোকাবিলা করছে।’

পল্লী বিদ্যুতের আন্দোলনে দেশবিরোধী শক্তির ইন্ধন রয়েছে : পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার, চাকরি বৈষম্য দূরীকরণ ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধসহ চার দফা দাবিতে আবার আন্দোলন শুরু করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মী অসন্তোষ দূর করতে ও তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করতে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বদলিকৃতদের আগের জায়গায় ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্তদের আগের পদে ফেরানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে আন্দোলনে দেশবিরোধী শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রেস সচিব।

শফিকুল আলম বলেন, কর্মীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কর্মবিরতির কোনো প্রয়োজন দেখছে না অন্তর্বর্তী সরকার। আন্দোলনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহকসেবা ব্যাহত হলে সরকার কঠিন ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার দুই উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীরও উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত