ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের তিন প্রার্থীর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্টটি করেন তিনি।
শুভ কামনা রইল ২১, ১৭, ০৮ লেখা একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন— ‘মেধাবীদের জন্য শুভ কামনা রইল।’
তার এই পোস্টকে ঘিরে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে ২১ নম্বর ব্যালটে ভিপি প্রার্থী হয়েছেন আবিদুল ইসলাম আবিদ, ১৭ নম্বর ব্যালটে জিএস প্রার্থী হয়েছেন তানভির বারী হামিম এবং একই প্যানেলে ৮ নম্বর ব্যালটে এজিএস প্রার্থী তানভির আল হাদী মায়েদ।
এদিকে দায়িত্বশীল একজন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ও সাধারণ মানুষ।
খাইরুল সরকার নামের এক ব্যক্তি প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানার ওসি মোজাফফর হোসাইন, সে আগে করত ছাত্রলীগ, এখন করে বিএনপি, সে যে লীগ করত এইটা তার অতীত বস থেকে শোনা। যাক নির্বাচন করার আগে কেন সংস্কার দরকার এটা জনগণ ভুলে গেলেও অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতা ভুলবে না। সে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নির্বাচন প্রচারণা চালানো আইনগতভাবে বৈধ কিনা দেখতে হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির সদস্য আসাদুজ্জামান খোকন ওসির ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ডাকসুতেই এই অবস্থা! জাতীয় নির্বাচনে কী হবে?’
প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ লিখেছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের পক্ষে প্রচারণা করছেন। পুলিশের ওসি পদে থেকে কীভাবে একটি দলের পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে পারেন?’
আব্দুল্লাহ আল নাঈম লেখেন, ‘প্যাচে পড়লে হ্যাক।’
নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোজ্জামেল হক ওসির ফেসবুকে পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে লেখেন, আইন অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রকাশ্য সমর্থন প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাফফর হোসাইন মঙ্গলবার ভোরে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি একটি ছাত্র সংগঠন মনোনীত ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীর ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে লেখেন- মেধাবীদের জন্য শুভকামনা রইল। ২১, ১৭, ০৮।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ফোন করলে তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল। তবে পরে নিজের আইডিতেই আবার পোস্ট দিয়ে লেখেন— আইডিতে শকুনের চোখ পড়েছে। হ্যাক করার চেষ্টা চলছে। একজন থানার ওসির কাছ থেকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা প্রত্যাশিত। হ্যাকিংয়ের অজুহাত দিয়ে দায় এড়ানো যাবে না। যদি সত্যিই হ্যাক হয়, তবে সেটিও প্রমাণ করার দায়িত্ব তার।
এ ব্যাপারে বেলা পৌনে ১২টায় সদর থানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে অফিসিয়াল ফেসবুকের এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, আমার ব্যক্তিগত আইডি হ্যাক করে রাজনৈতিক পোস্ট দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। আমার আইডিতে শকুনের চোখ পরেছে। আইনি ব্যবস্থা নিব ইনশাআল্লাহ।
