জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে তৃতীয় দিনের মতো ভোট গণনা চলছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি হলের মধ্যে ১৭টির গণনা শেষ হয়েছে।
আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ও জাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের অভিজ্ঞতাও কম। তবে সবাই সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। আশা করছি আর দেরি হবে না। আড়াইটার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
সর্বশেষ আটটি হলের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়া গেছে। তাতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী আরিফের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে এগিয়ে আছেন ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেলের মো. মাজহারুল ইসলাম, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাগছাস প্যানেলের আবু তৌহিদ মো. সিয়াম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এগিয়ে আছেন ফেরদৌস, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাগছাস প্যানেলের জিয়া উদ্দিন আয়ান। এজিএস নারী পদে শিবির প্যানেলের আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং বাগছাসের মালিহা নামলাহর মধ্যে লড়াই চলছে।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভিপি পদে জিতু ও আরিফের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ১০ নম্বর হলে জিতু পেয়েছেন ১৬২ ভোট, আরিফ পেয়েছেন ১২২ ভোট এবং উজ্জ্বল পেয়েছেন ৪২ ভোট। বঙ্গমাতা হলে জিতু পেয়েছেন ৮৯ ভোট, আরিফ পেয়েছেন ৮১ ভোট। এমএমএইচ হলে জিতু পেয়েছেন ১১১ ভোট, আর আরিফ পেয়েছেন ১১৬ ভোট। ফজিলতুন্নেছা হলে জিতু এগিয়ে আছেন ২৫২ ভোট নিয়ে, আরিফ পেয়েছেন ৯৫ ভোট। প্রীতিলতা হলে ভিপি পদে জিতু পেয়েছেন ৬৫ ভোট (স্বতন্ত্র প্যানেল), আরিফ পেয়েছেন ৪৭ ভোট (শিবির সমর্থিত) ও উজ্জ্বল পেয়েছেন ১৭ ভোট (বাগছাস সমর্থিত)।
এবারের জাকসু নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬।
নির্বাচনে অংশ নিয়েছে মোট আটটি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল। তবে ভোটগ্রহণ শুরুর পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জনকারীদের মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের 'সংশপ্তক পর্ষদ' এবং স্বতন্ত্রদের ‘অঙ্গীকার পরিষদ’। এছাড়া ছাত্র ফ্রন্টের একটি বিভাজিত অংশ এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটগ্রহণ বর্জনের ঘোষণা দেয়।
এবারের নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে ১১ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়।
