আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের ১৯ সেনা নিহত

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১৪ এএম

আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। তালেবান সদস্যদের ক্রমাগত হামলার মধ্যে দেশটির বাজাউর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানকালে এই সংঘর্ষ ঘটে। তিনটি পৃথক অভিযানে কমপক্ষে ১৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে।

আল জাজিরায় শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানি তালেবানদের তিনটি অবস্থানের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালায় সরকারি বাহিনী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ভারী গোলাবিনিময় ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলায় ২২ জন তালেবান সদস্য নিহত হন। একই দিন দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলায় আরও একটি অভিযানে ১৩ জন তালেবান সদস্য মারা যান।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে ১২ জন সেনা বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হয়েছেন। এছাড়াও লোয়ার দির এলাকায় সেনাদের একটি জঙ্গি অবস্থান শনাক্ত করার পর সংঘটিত গুলিবিনিময়ে আরও ৭ সেনা ও ১০ বিদ্রোহী নিহত হন।

অন্যদিকে, পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, আফগানিস্তানে অবস্থানরত এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবান থেকে আলাদা, তবে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান তালেবানরা আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এজন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগান তালেবান সরকারকে তার ভূমি ব্যবহার করতে না দিতে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিহত তালেবান সদস্যদের "খোয়ারিজ" (বিদ্রোহী) আখ্যা দিয়েছে। এনিয়ে ভারতকে মদদদাতা বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ, যদিও তারা এ অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান তালেবান ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করার অভিযোগ করে আসছে, যা নয়াদিল্লি- অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় আফগান তালেবান সরকার বা ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত