ইসরায়েলি হামলার পর কাতারে আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম

গত সপ্তাহে দোহায় চালানো ইসরায়েলের হামলার জবাব নিয়ে আলোচনা করতে কাতারে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন উপসাগরীয় ও আশপাশের মুসলিম দেশের নেতারা। হামাসের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ইসরায়েল দাবি করেছিল। তবে এর প্রভাব সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

হামাস সদস্যরা যখন দোহায় তাদের কার্যালয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন ঠিক তখনই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েল। আলোচনার টেবিলে থাকা চুক্তিটি মূলত দুই বছর ধরে গাজায় চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ ছিল।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সাআর দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজায় হামাসের হাতে থাকা ৪৮ জন বন্দী মুক্তি পাবে বিনিময়ে ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির শর্তে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

ইসরায়েলের ওই হামলায় হামাসের পাঁচজন সদস্য ও একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়। তবে যাদেরকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করা হয়েছিল তাদের কেউ হামলায় নিহত হয়নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে এই হামলার নিন্দা জানায়।

কাতারের প্রতিক্রিয়া

কাতার আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সোমবার জরুরি আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সম্মেলন শেষ হবে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি কাতার নিউজ এজেন্সিকে (কিউএনএ) বলেন, ‘শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলের হামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খসড়া প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। এটি ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের আরেকটি দৃষ্টান্ত।’

রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ওই খসড়া চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিন্দার সুর আরও জোরালো হবে।

কাতারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানি, যিনি শুক্রবার নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, বলেছেন কাতার হামলার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিক্রিয়ার পথে হাঁটবে, কারণ এটি পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে, ইসরায়েলের গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা ও আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। রবিবার ও সোমবারের বৈঠকে কাতার অঞ্চলে প্রকাশিত ফিলিস্তিনপন্থী মনোভাব ও ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতাকে কাজে লাগাবে।

কে কে অংশ নিচ্ছে

সম্মেলনে ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব লীগের নেতারা অংশ নেবেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

শনিবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ইসলামিক সরকারগুলোকে সতর্কবার্তা জারি করে বলেন, তারা যেন কেবল বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে ইসরায়েলের ‘উন্মাদনার’ বিরুদ্ধে একটি ‘যৌথ অপারেশন রুম’ গঠন করে। সোমবারের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পূর্ণাঙ্গ অতিথি তালিকা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত