হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা

সরকারি বালু বিক্রি ৬০ লাখ টাকা যুবলীগ নেতার পকেটে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বিক্রির ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের নেতা হেলাল মিয়া ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো.শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত যুবলীগের নেতা হেলাল মিয়া সম্পর্কে সাবেক বিমান পরিবহন ও পযর্টন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর চাচা।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ের তথ্যমতে,

উপজেলার সোনাই নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত এক লাখ ঘনফুট সিলিকা বালু স্থানীয় প্রশাসন জব্দ করেছিল। ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি সেই বালু নিলামের জন্য অনুমোদন দেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক। ৯ মার্চ নিলাম কমিটির আহ্বায়ক হন তৎকালীন মাধবপুর উপজেলার প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাহ আলম। বালু তিন অংশে বিভক্ত করে নিলামে বিক্রয় করা হয়। মহব্বতপুরের ৯টি স্ত্তপ পান ছাত্রলীগ নেতা মেসার্স শান্ত এন্টারপ্রাইজ,মঙ্গলপুর মৌজার দশটি স্তুপ পান মেসার্স পারভেজ চৌধুরী ও একই স্থানে ৮টি স্ত্তপ পায় যুবলীগ নেতা হেলাল মিয়া। পরে শান্ত এন্টারপ্রাইজ ও পারভেজ চৌধুরী নিলামের টাকা সরকারি কোষাগরের জমা দিলেও হেলাল মিয়া বালু বিক্রির ৮৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে মাত্র ২৩ লাখ টাকা জমা দেন। বাকি ৬০ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা জমা না দিয়ে হেলাল মিয়া ও প্রকৌশলী শাহ আলম যোগসাজসে রাজস্বের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে নেন।

স্থানীয়রা জানান, হেলাল মিয়া সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর চাচা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটাতেন। কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে সোনাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করেনি।

এদিকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নিলামের তথ্য চাওয়ার পর বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী রেজা উন নবী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম নিজ হেফাজতে নথি রাখলেও চলে যাওয়ার সময় জানিয়ে দেন অফিসে আর কোনো নথি নেই। এজন্য তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অপরদিকে নিলাম কমিটির আহ্বায়ক শাহ আলম অবসরে গেছেন।

তবুও মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হেলাল মিয়া পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি তাই তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। এ জন্য বালু বিক্রির অনুমতি তিনি পাননি।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওি) মোহাম্মদ জাহিদ বিন কাসেম বলেন, এ ঘটনার সময় আমি এখানে দায়িত্বে ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে অবগত নই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা হেলাল মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।ৃ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত