সামরিক হামলায়ও ইরানের পরামাণু স্থাপনা ধ্বংস হবে না

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৯ পিএম

ইরানের পরমাণু শিল্পকে সামরিক হামলা দিয়ে ধ্বংস করা যাবে না। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন ইরানের পরমাণু প্রধান মোহাম্মদ এসলামি। তিনি তার ভাষণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বেআইনি হামলার অভিযোগ তোলেন।

৬৯তম সাধারণ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে এসলামি বলেন, ‘ইরানের শত্রুদের জানা উচিত, আমাদের পরমাণু শিল্পের শিকড় অনেক গভীরে এবং সামরিক হামলা চালিয়ে তা নির্মূল করা সম্ভব নয়। ইরান কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক চাপে নতি স্বীকার করবে না এবং নিজেদের অধিকার ত্যাগ করবে না।’

তিনি আরও বলেন, আইএইএ-এর সঙ্গে তেহরানের সহযোগিতা ব্যাপক এবং ধারাবাহিক ছিল। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন যে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হওয়া আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা করতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সত্ত্বেও, সংস্থাটি ইসলামিক রিপাবলিকের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানায়নি। এই নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তা আইএইএ-এর ইতিহাসে একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে।’

এসলামি বলেন, ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনতে ইউরোপের ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টাও বেআইনি। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, যা জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত, তা প্রমাণ করেছিল যে কূটনীতি সফল হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোই এর ভিত দুর্বল করেছে। 

তিনি বলেন, ‘আজ জেসিপিওএ-এর বার্ষিকীতে আমরা স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া সক্রিয় করার জন্য বেআইনি প্রচেষ্টা দেখছি। এই প্রচেষ্টা রেজ্যুলেশন ২২৩১-এর প্রতি এক ধরনের উপহাস।’

এসলামি আরও বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা কেবল অবকাঠামোর ওপরই আঘাত হানেনি, বরং কূটনীতিকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তার মতে, ‘জায়নবাদী শাসনের লক্ষ্য কেবল আমাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা নয়, বরং কূটনীতি ও শান্তির পথকে লাইনচ্যুত করা।’

এসলামি জানান, ইরান পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ করার জন্য সম্মেলনে একটি প্রস্তাব পেশ করবে এবং তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা করে এমন দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে।

এই মন্তব্যের কিছুদিন আগেই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নতুন করে আইএইএ-এর পরিদর্শনের জন্য কিছু শর্ত দিয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থা গত সপ্তাহে কায়রোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

কাউন্সিল জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর যে কোনো পরিদর্শনের জন্য তাদের অনুমোদন লাগবে। তারা আরও সতর্ক করেছে যে, যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতা করা হয়, যেমন নতুন করে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে এই চুক্তি বাস্তবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

চলতি বছরের ২৮ আগস্ট যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করে। তারা ইরানের কাছে আলোচনায় ফিরে আসার এবং তাদের কাছে থাকা ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে হিসাব দেওয়ার দাবি জানায়। যদি নিরাপত্তা পরিষদ এই পদক্ষেপ বন্ধ না করে, তবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হবে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আইএইএ জানায় যে, জুনে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার আগে তাদের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ৪৪০.৯ কিলোগ্রামে পৌঁছেছিল। গ্রসি জানান, কারিগরি প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত হলে কায়রো চুক্তি অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ পুনরায় চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত