জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ছাত্র হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় ছাত্রদল নেতা জোবাইদের বিরুদ্ধে ইকরামকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এর আগে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জোবাইদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য এবং সিএসই বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী। অপরদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ মিলে সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইকরাম হোসেনের রুমে (হল-২০৩ নম্বর) ঢোকেন। এ সময় সিট দখল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই সিটে আগে থেকেই সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহান ও রাশেদ থাকেন। হলে নতুন সিট বরাদ্দে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইকরাম আপত্তি জানান। কিন্তু তারা সিএসই বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সদস্য মো. জোবাইদ হোসেনকে জোর করে সেখানে থাকার কথা বলেন এবং জিনিসপত্র সরাতে যান। এ সময় বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জোবাইদ হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ইকরামকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্যরা তাকে আটকালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
পরে গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইকরাম হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল সদস্য মো. জোবাইদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমাকে শুধু ডাকা হয়েছিল, হত্যাচেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করলেও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। ইকরাম ভাই মা-বাবাকে গালি দেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই জোবাইদকে আটকিয়ে বাইরে নিয়ে যাই।”
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. সাদিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ডেকেছি। প্রাথমিকভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করব। এতে কাজ না হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
