দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও অবৈধভাবে সেচযন্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪২ পিএম

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সাবেক সহকারী প্রকৌশলী এস.এম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বদলি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও তিনি অবৈধভাবে সেচ কমিটির সভা ডেকে নতুন সেচযন্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিএমডিএ একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

গত ২২ আগস্ট এস.এম মিজানুর রহমানকে নওগাঁর মান্দা থেকে বগুড়ার গাবতলীতে বদলি করা হয়। অফিস আদেশে তাকে ২৫ আগস্টের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি ২৫ আগস্টই নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে ছাড়পত্র নেন এবং নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

অথচ, দায়িত্ব হস্তান্তর করার দুই দিন পর, ২৭ আগস্ট সকালে তিনি উপজেলা সেচ কমিটির একটি সভা ডাকেন। এই সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন করে ১২টি স্কিমে ব্যক্তিগত সেচযন্ত্র স্থাপনের লাইসেন্স এবং ৬টি স্কিমের সেচযন্ত্রের লোড বৃদ্ধিসহ মোট ২৭টি ব্যক্তিগত সেচযন্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়।

উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী এবং সদস্য সচিব এস.এম. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত সভার কার্যবিবরণীতে এই তথ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, গত বছরই তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক একটি চিঠিতে সর্বোচ্চ সেচযন্ত্র স্থাপন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কোনো নলকূপের লাইসেন্স না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কারণ এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ এই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই এস.এম. মিজানুর রহমান নতুন লাইসেন্স অনুমোদন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমডিএ মান্দা জোনের একজন কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে জানান, এস.এম মিজানুর রহমান গত বছরের ২০ জুলাই মান্দা জোন অফিসে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অপারেটর নিয়োগ, মোবাইল ভেন্ডিং ডিলারদের কমিশন, মিটার ও মোটর প্রদান, সেচযন্ত্রের ঘর ও নালা বর্ধিতকরণের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিতেন। এই কর্মচারী আরও অভিযোগ করেন যে, দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও তিনি তিন দিন মান্দা জোনে অফিস করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও এস এম মিজানুর রহমান সেচ কমিটির সভা করেছেন। এ ঘটনার তদন্তে নিয়ামতপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই এস.এম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস.এম মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী সেচ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও সভার সঠিক তারিখ বলতে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত