বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যার মামলার অন্যতম আসামি মো. মুশফিক উদ্দীন টগরকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর এলাকা থেকে একটি রিভলবার ও ১৫৬ রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আগামিকাল বেলা ১১টায় কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন র্যাব ৩-এর পরিচালক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
২২ বছর আগে ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটের কেমিপ্রকৌশল বিভাগের ১৯৯৯ ব্যাচের ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি সেদিন ক্লাস শেষে বুয়েটের হলে ফিরছিলেন। কিন্তু হলে আর তার ফেরা হয়নি, ফিরেছেন রক্তমাখা লাশ হয়ে। সনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর সারা দেশে আন্দোলন হয়।
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন সনি। দরপত্র নিয়ে ওই সংঘর্ষ হয়।
এত বছর পরও আলোচিত ওই হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ছিলেন পলাতক। মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি মারা যান সনির বাবা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন। সনির মা দিলারা বেগম এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
ঢাকার বিচারিক আদালতে সনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ২০০৩ সালের ২৯ জুন। রায়ে ছাত্রদলের নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর, মোকাম্মেল হায়াত খান ওরফে মুকিত ও নুরুল ইসলাম ওরফে সাগরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
পরে ২০০৬ সালের ১০ মার্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সাজা কমিয়ে তাদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে দুজনকে খালাসও দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত ছয় আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে আছেন। মোকাম্মেল ও নুরুল এখনো পলাতক।
তবে আসামি মুশফিক উদ্দিন টগর কারাভোগের পর মুক্ত ছিলেন। তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুয়েটের শিক্ষার্থীরা সনি হত্যার দিনটিকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালন করেন। এ ছাড়া সনি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও সনির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।
