বরগুনার পাথরঘাটায় গত ১২ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। গতরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান এবং একজন মারা গেছেন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ।
মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, পাথরঘাটা উপজেলার উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুটাবাছা এলাকার সুজন ঢালীর মেয়ে শুক্লা ঢালী (১৩), আমড়া তলা এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে হাসান (২৫)। কাকচিড়া ইউনিয়নের হরিদ্রা এলাকার নাসির মোল্লার ছেলে সিদ্দিক মোল্লা (৪৫)। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা এলাকার আব্দুর রশিদ মোল্লার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৭৫)।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে গতরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চারজন মারা যান।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় নতুন করে ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯২৪। এর মধ্যে সরকারি নথি অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা প্রায় তিনগুন।
আইইডিসিআরের জরিপ অনুযায়ী, বরগুনার গ্রামীণ এলাকায় এডিস মশার বিস্তার অত্যন্ত ভয়াবহ। গত জুনে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের ৭৬ শতাংশ এবং পৌরসভার ৩১ শতাংশ বাড়িতেই এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব বলেন, ‘বৃষ্টি কমার পর থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।’
বরগুনার সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ বলেন, গতরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পাথরঘাটার চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছে। জেলা জুড়ে ডেঙ্গুর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
