ফের প্রশ্নবিদ্ধ ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

বিতর্কের পর বিতর্ক। এর আগেও যেমন একাধিকবার বিতর্কে জড়ায় ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতা, তেমনি প্রশ্নের কবলে পড়েন বিজয়ী হওয়া তানজিয়া জামান মিথিলা। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি গ্রিনহাউসে জমকালো অনুষ্ঠানে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেখানে মিথিলার মাথায় সেরার মুকুট পরিয়ে দেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা এবং মডেল-অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল। এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো মিস ইউনিভার্স হলেন মিথিলা। আর এখান থেকেই বিতর্ক শুরু। দ্বিতীয়বার মিথিলার চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। যদিও আয়োজকেরা পরিষ্কার করেছেন তাদের অবস্থান। মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের পরিচালক মুস্তাফা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা মেনে তারা পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। 

এর আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হলেও এবার অনেকটা চুপিসারে শুরু হয়ে চুপিসারেই শেষ হয়েছে আয়োজন। একজন অভিজ্ঞ মডেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এবারের প্রতিযোগিতা যেন আনুষ্ঠানিকতা পূরণের জন্যই করা হয়েছে। বিজয়ীর নাম আগেই ঠিক করা ছিল, এমন গুঞ্জনও আমরা শুনেছি।’ আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটা প্রতিযোগিতা নয়, কাস্টিং কল। মাত্র ২–৩ দিনে প্রতিযোগিতা শেষ করে সেরা বেছে নেওয়া যায় না।’ 

এদিকে মিস ইউনিভার্সের ফেসবুক পেজে উর্বানা বিনতে আসগর নামের একজন লিখেছেন, ‘একজন মানুষ কীভাবে দুবার বিজয়ী হতে পারে! এটা কি মজা নাকি! আর কে বলেছে, সে আগেরবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে যায়নি? সে তো গিয়েছিল, মিস ইউনিভার্স ২০২০–এ গিয়ে ভুলভাল ইংরেজি বলার জন্য ট্রলের শিকার হয়েছিল।’ কে এস চৌধুরী লিখেছেন, ‘অন্যদের কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।’ 

সুন্দরী প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘স্বচ্ছতা না থাকলে মিস ইউনিভার্সের মতো প্রতিযোগিতার গুরুত্ব কমে যায়। ছোট আয়োজন করা যেতে পারে, কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের সময়, প্রস্তুতি ও মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছাড়া আসরের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’ 

এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ছোট পরিসরে আয়োজন করার পরামর্শ এসেছে মিস ইউনিভার্সের মূল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই। তাই দ্রুত আয়োজন সেরেছেন তারা। তবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী বছর মহা ধুমধামে আয়োজন করা হবে দেশের সব বিভাগে হবে নাম নিবন্ধন, থাকছে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা। আয়োজন যে ‘কাস্টিং কল’, তা স্বীকার করেছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের পরিচালক মুস্তাফা রফিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘এবার ওরা (মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ) নতুন মুখ খুঁজছে। ওরা চাচ্ছে, নতুন একটা দেশ আসুক, প্রতিযোগিতায় ভালো করুক। এবার আমাদের টার্গেট, মুকুট নিয়ে আসা। আমরা যে লোকাল শো করেছি, তা আমাদের জন্য করা হয়নি, মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের পরামর্শে হয়েছে। মিস ইউনিভার্স আমেরিকা তাতিয়ানা কালমেল যখন বাংলাদেশে এলেন, তখন কয়েকজন বাংলাদেশি মেয়েকে দেখেছিলেন। সেখানে অনেকের মধ্যে মিথিলাও ছিল। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাও সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। এরপর মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ আমাকে মেইল করে তাদের মতামত জানায়। তারা আমাকে বলে, ‘তুমি তো অনেক বড় করে অনুষ্ঠান করতে চাও, কিন্তু আমাদের দরকার একজন প্রতিযোগী, মিথিলার থেকে বড় প্রতিযোগী পাবে কি না? তোমরা এই মেয়েকে (তানজিয়া জামান মিথিলা) সিলেক্ট করো। আমাকে জানাও। এ ধরনের কথাবার্তার সব ডকুমেন্টও আছে আমার কাছে।’ 

রফিকুল ইসলাম জানান, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার জন্য কাস্টিং কল আহ্বান করা হলে ৫০ জনের বেশি আগ্রহী প্রতিযোগী আবেদন করেন। এরপর সেখান থেকে পাঁচজনকে চূড়ান্ত করা হয়। সেখান থেকেই মিথিলাকে বিজয়ী করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত