আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি নাহিদ ইসলামের

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২১ পিএম

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জুলাই মাসের অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন আসামির তালিকায় রয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমার সাক্ষ্য দেওয়া জেরা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেছি। এটা অবশ্যই মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই অপরাধ লেখা হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলায় ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনাকে আসামি করে বিচার চলছে। কিন্তু আমি মনে করি এটি কেবল ব্যক্তির অপরাধ নয়, বরং রাজনৈতিক অপরাধ। তাই আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। ট্রাইব্যুনালের সে ক্ষমতা আছে। আমরা আবেদন জানাবো। ইতোমধ্যে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে। শেখ হাসিনা যেহেতু দলের প্রধান, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তাঁকে উৎখাত করেছে। তাই এটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অপরাধ। দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা দরকার।’

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে ঘিরে বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে গুলি চালানো হয়েছে, হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক দফা ঘোষণা দিয়ে তাঁকে উৎখাতের প্রস্তুতি নেওয়া বৈধ ছিল। এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। জনগণের পক্ষ থেকে এটি সম্পূর্ণ বৈধ। জনগণের অভ্যুত্থান হিসেবেই জুলাই-আগস্ট সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি শক্তির কোনো ইন্ধন ছিল না। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছিল, জীবন দিয়ে প্রতিরোধ করেছে এবং সফলতা অর্জন করেছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যরা বিচারের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তিনি টানা তিন দিনে সাক্ষ্য শেষ করলেন।’

এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দেন নাহিদ ইসলাম। পরে বৃহস্পতিবার তাঁর জেরা শুরু হয়।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুনের রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত