ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেন সালমান এফ রহমান

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:০০ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মো. নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর তার প্রতিষ্ঠানের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ঢাকার আদালতে পুলিশের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এ তথ্য জানা গেছে। গত ৪ মে রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলার প্রেক্ষিতে এ আবেদন করা হয়।

গত ২২ মে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সালমান এফ রহমানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন।

আবেদনে এসআই সালাম উল্লেখ করেন, সালমান ও তার সহযোগীরা নজরুলকে অপহরণ করেন, তাকে তার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেন ও অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেন।

এদিকে নজরুলের বিরুদ্ধে করা মামলা সম্পর্কে চলতি বছরের ২৮ আগস্ট পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ছয়টি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

গুলশান থানার এসআইয়ের আবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সালমান এফ রহমানের নির্দেশে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে রাজধানীর বাসভবন থেকে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে। ভুক্তভোগী নজরুল ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেড, ফারইস্ট ইসলামী সিকিউরিটি লিমিটেড এবং ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি প্রাইম ইনস্যুরেন্স কম্পানি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি এবং মেসার্স রিমশা এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যানসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার এবং স্বত্বাধিকারী ছিলেন। অপহরণের পর তিন দিন ডিবি কর্মকর্তারা তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে বেশ কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তৎকালীন ডিবিপ্রধান সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ ব্যবসায়ীকে অপহরণে নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে।

আবেদন অনুসারে, সালমান এফ রহমানের কথায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে নজরুল অসম্মতি জানালে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাকে পদচ্যুত করা, আর্থিকভাবে নিঃস্ব করা, পথে বসিয়ে দেওয়া, অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানি, ডিবি পুলিশ দিয়ে অপহরণ, গুম ও খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির বিষয়গুলো নজরুল ইসলাম তার প্রতিষ্ঠানসমূহের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ফোরামে যথাসময়ে অবহিত করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বরাবর নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে সালমান এফ রহমান নজরুলের প্রতি আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন এবং পরিবারসহ বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

এক পর্যায়ে প্রাণভয়ে নজরুল ও তার স্ত্রী ২০২১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর সালমান এফ রহমান একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেন।

নজরুল তা শুনে বাড়ি ফিরে আসার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার পাসপোর্ট ব্লক করা হয়। পরে ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ডিবি তাকে বাসভবন থেকে অপহরণ করে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেয়। নজরুল ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন মামলা দেওয়া হয়। পুলিশের আবেদন অনুসারে, নজরুলের আরো দুটি কম্পানি—ফারইস্ট ইসলামী সিকিউরিটি লিমিটেড ও ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টিজ লিমিটেডের বোর্ড ভেঙে দেন সালমান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে পুনর্গঠন করেন।

নজরুল যখন তার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান, তখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের সহায়তায় সালমান তাকে অপসারণের জন্য জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। আরও অভিযোগ করা হয়, নজরুলের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার চালান সালমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত