দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে ৫০ শয্যার হলেও হাসপাতালে রোগীর চাপ ধারাবাহিকভাবে দ্বিগুণের ওপরে। গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছেন ১০০ থেকে ১২০ জন, আর আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন রোগী।
চিকিৎসক সংকটের কারণে এই চাপ সামলাতে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। জানা যায়, হাসপাতালের অনুমোদিত ৩২টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং ১ জন দন্তচিকিৎসকসহ কর্মরত আছেন। এই অবস্থার সঙ্গে তারা কয়েক মাস ধরেই লড়াই করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবু নোমান বলেন, ‘একদিকে চিকিৎসক সংকট, অন্যদিকে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। শুধু আমাদের উপজেলার রোগী নয়, পাশের ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শহর থেকে দূরে হওয়ায় সেখানকার রোগীরাও চিকিৎসার জন্য আমাদের হাসপাতালে আসেন। ফলে চিকিৎসকদের প্রচণ্ড চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকরা যেমন হিমশিম খাচ্ছেন, তেমনি রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।’
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০২ জন। শয্যার অভাব থাকায় কিছু রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আউটডোরেও রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
যদিও রোগীর চাপ বেড়ে গেছে, চিকিৎসক ও নার্সরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
ওয়ার্ড ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী খাতুন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল ফিভার ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনুমোদিত ৩২ জন চিকিৎসকের স্থলে বর্তমানে মাত্র ৫ জন কর্মরত থাকলেও তারা অতিরিক্ত শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি বিভাগ ও আউটডোরেও প্যারামেডিক ও ফার্মাসিস্টরা চিকিৎসকদের সহায়তায় সেবা প্রদান করছেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে নিয়মিত রোগী দেখছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর।
উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের রোগী হাসান আলী বলেন, ‘এই হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা জরুরি। তবে ডাক্তার ও নার্সরা আন্তরিকভাবে আমাদের সেবা দিচ্ছেন, এটা প্রশংসনীয়।’
গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রেশমি বেগম জানান, ‘আগে এখানে সেফ ডেলিভারিতে বাড়তি টাকা দিতে হতো। এখন আর সে সমস্যা নেই। পরিবেশও আগের তুলনায় অনেক ভালো।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, ‘চিকিৎসক সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা সীমিত জনবল দিয়েই রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট আছি। সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।’
হাসিনার বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর
রাজধানীর তালতলায় চা বিক্রেতাকে হত্যা