দাফনের পরদিন জানা গেল শ্বাসরোধে হত্যা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১০ পিএম

দুই শিশুর মধ্যে মারামারি হয়। সেই মারামারিকে কেন্দ্র করে ৪ বছর বয়সী শিশু মেহেদী হাসানকে শিক্ষা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গৃহবধূ সুইটি বেগম (২৩)। 

হত্যার দায় শিকার করায় ওই গৃহবধূকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। 

এরআগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী কুপতলা গ্রামের ধারে ঝাউজঙ্গলের (আড়া) পাশে ডোবা থেকে শিশু মেহেদীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে দাদা বাড়ি দাফন করা হয়।

শিশু মেহেদী কুপতলা মধ্যপাড়ার গার্মেন্টস কর্মী মিষ্টি আক্তারের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত সুইটি বেগম একই এলাকার হবিবর রহমানের মেয়ে। এঘটনায় মিষ্টি আক্তার বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলার দায়ের করেছেন।

কুপতলা এলাকাবাসী ও সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, শিশু মেহেদী হাসানের মা মিষ্টি আক্তারের ডিভোর্স হওয়ায় সে কুপতলা গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করে। সম্প্রতি জীবিকার তাগিদে মিষ্টি আক্তার ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করছেন। তার ছেলে শিশু মেহেদী তার নানার বাড়িতে থাকে। পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকালে মেহেদী হাসানকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

পরে আটক আসামির কথামতো বাড়ির আড়ায় (ঝাউজঙ্গল) খোঁজ নেয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ডোবায় মেহেদী হাসানের লাশ পানিতে ভাসছে। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। সংবাদ পেয়ে মিষ্টি আক্তার ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে। 

এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করে মেহেদী হাসানকে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর তার দাদার কথামতো তার দাদার বাড়ি সদর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসানকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার কথা সুইটি বেগম তার মা আনিছা বেগমকে জানায়। 

এ খবর শুনে আনিছা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মেহেদী হাসানকে মেরে ফেলার কথা বেশ কয়েকজনকে বলে দেয়। পরে এলাকাবাসী গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর ঘাতক সুইটি বেগমকে আটক করে পুলিশের কাছে খবর দেয়।

আটক সুইটি বেগম এলাকাবাসীকে জানিয়েছে, মাস খানেক আগে শিশু মেহেদী হাসানের সাথে সুইটি বেগমের ছেলে জিসান মিয়া (৪) খেলতে গিয়ে মারামারি করে। 

এ নিয়ে সুইটি বেগমের সাথে মেহেদী হাসানের নানির ঝগড়াঝাটি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে, সুইটি বেগম গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকালে আড়ার (ঝাউজঙ্গল) ভেতরে মেহেদী হাসানকে একা পেয়ে তার মুখ চেপে ধরে, বুকের উপর হাঁটু গেড়ে দিয়ে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মেহেদী হাসানের লাশ ডোবার পানিতে ফেলে দেয়।

নিহত মেহেদীর মা মিষ্টি আক্তার বলেন, আমরা মনে করেছিলাম আমার ছেলেকে জিনের আচড়ে পানিতে পরে মারা গেছে। পরে ঘাতক সুইটির মা আনিছা বেগম আমাদের জানিয়েছে তাকে মেরে ফেলার কথা। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার দিন থেকেই ঘাতক সুইটির জ্বর। তার মা আমাদের বলার পর সে নিজের মুখেও স্বীকার করেছে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার অপরাধে তার যেন ফাঁসি হয়। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে আসামীকে গ্রেপ্তার করে তাকে বগুড়া জেলার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

বুধবার সন্ধ্যায় আদালতে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ঘটনার শিকার শিশু মেহেদীর লাশ ময়না তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে উত্তোলন করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত