মুকুট জেতার পরদিনই ব্যক্তিগত ভিডিও হওয়ার জেরে তা হারালেন থাইল্যান্ডের সুন্দরী। আয়োজকরা স্পষ্ট অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে দেখার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মিস গ্রান্ড থাইল্যান্ড প্রতিযোগিতা কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সুফানির কার্যক্রম প্রতিযোগিতার নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিউ স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুফানি নয়ননথং গত ২০ সেপ্টেম্বর মিস গ্র্যান্ড প্রাচুয়াপ খিরি খান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পরবর্তী ধাপে জাতীয় পর্যায়ের মিস গ্র্যান্ড থাইল্যান্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার জয়ের পরপরই আবিষ্কৃত ওই প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের কারণে তা আর সম্ভব হলো না।
যুক্তরাজ্যের ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ভিডিওগুলোর জন্য থাই সুন্দরী তিন বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। কারণ তাকে অনলাইনের ভিডিওতে নিজের পোশাক খুলতে দেখা গেছে। ঘটনার পর এখন পুলিশের তদন্তের মুখে পড়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই নারী। থাই আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যৌনবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা নিষিদ্ধ। তাই তার জেলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভিডিও ক্লিপগুলোতে দেখা যায়, স্বচ্ছ পোশাক পরে প্ররোচনামূলক ভঙ্গিতে নাচছেন সুফানি। তাকে ই-সিগারেট টানতেও দেখা যায়, এমনকি সেক্স টয় ব্যবহার করতেও দেখা যায় যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টায়, সুফানি বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থাই টেলিভিশনে হাজির হন বলে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওয়েবসাইট মাদারশিপ জানায়। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন মিস গ্র্যান্ড থাইল্যান্ডের একজন প্রাদেশিক পরিচালক এবং একজন আইনজীবী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফানি স্বীকার করেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি ওই প্রাপ্তবয়স্ক সাইটে যোগ দেন। তিনি দাবি করেন, পরিবারের খরচ চালানোর জন্যই তাকে এটি করতে হয়েছিল। তবে তিনি জানতেন না যে থাইল্যান্ডে এটি বেআইনি।
নিজের জীবনের কাহিনি বলতে গিয়ে জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ড্রপ আউট। নিজের ও পরিবারকে চালিয়ে নিতে একাধিক কাজ করতেন। তবে জীবনে একাধিক দুঃখজনক ঘটনার মুখোমুখি হন। স্কুলে পড়াকালীন তার বাবা মারা যান। তার মাও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি মারা যান।
ভিডিওর প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে প্রচারিত ক্লিপটি ২০২৪ সালে প্রাপ্তবয়স্ক সাইটে করা একটি লাইভস্ট্রিম থেকে রেকর্ড করা হয়েছিল। তিনি বলেন, তিনি ওই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে একটি স্থিতিশীল ক্যারিয়ারের দিকে যেতে চেয়েছিলেন এবং মিস গ্র্যান্ড থাইল্যান্ডকে সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
তবে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিয়মাবলি পড়েছেন কিনা—যেখানে স্পষ্টভাবে বলা ছিল ‘অনৈতিক কিছু করা নিষিদ্ধ’—তখন তিনি স্বীকার করেন যে তিনি পড়েননি। যখন তাকে বলা হয়, এ কারণে তার জেল হতে পারে, তখন তিনি বিস্মিত হন।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি জেলে যেতে চাই না।’ আয়োজকদের কাছে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নিজেকে সংশোধনের জন্য দ্বিতীয় সুযোগও চেয়েছেন। প্রতিযোগিতার পরিচালকও জানান, তারা আবারও তার মুকুট ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।
তবে সুফানিই একমাত্র সুন্দরী প্রতিযোগী নন যিনি অনুপযুক্ত আচরণের কারণে মুকুট হারিয়েছেন। থাইসা ফ্লোরিন্দো নামে এক প্রতিযোগী ২০২২ সালে মিস ইউনা শিরোপা জিতেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলে একটি প্রতিযোগিতার সময় তার মারামারির ভিডিও প্রকাশিত হলে তাকেও বিজয়ীর আসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নাটকীয় ফুটেজে ওই নারীকে ঝগড়ার পর চিৎকার করতে শোনা যায়, ‘আমি ওকে জোরে মেরেছি, আবারও মারব। আরেকজনকেও মারব।’ পরে তিনি স্বীকার করেন, মারামারিতে তিনি জড়িত ছিলেন, তবে দাবি করেন তিনি মদ্যপ ছিলেন না বরং দাবি করেন, ‘আমাকে মুখে ড্রিংকস ছুঁড়ে মারা হয়েছিল বলে আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম।’
